
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, তাকে প্রয়োজনে ইরানের অবশিষ্টাংশও সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিতে হতে পারে। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
সে সময় ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, এই বিষয়ে সবাই খুব দ্রুতই বিস্তারিত জানতে পারবেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, এখন আমাদের মূল সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে—আমরা কি আরও সামনের দিকে অগ্রসর হব এবং এই ঘটনার একটি চূড়ান্ত পরিণতি বা মীমাংসা টানব কি না?
তিনি চূড়ান্ত মীমাংসা বলতে আরও স্পষ্ট করে বুঝিয়ে বলেছেন, এমন একটি পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে যাতে এই সংকটের পুনরাবৃত্তি আর কখনো না ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই শীর্ষ নেতা উপস্থিত সাংবাদিকদের আরও বলেন, যদি কোনো বিকল্প থাকে, তবে তিনি পারতপক্ষে ইরানের বাকি থাকা অংশ আর ধ্বংস করতে চান না।
তবে বর্তমান পরিস্থিতির বাস্তবতায় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হয়তো শেষ পর্যন্ত এই চরম পদক্ষেপটি গ্রহণ করতে হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
ট্রাম্প দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, এই বিষয়ে যা ঘটার তা আপনারা অত্যন্ত খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জানতে পারবেন।
উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের ঠিক ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে সামরিক আগ্রাসন বা যুদ্ধ শুরু করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষের মধ্যকার চলমান এই বৈরী সম্পর্কে এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের চূড়ান্ত সমঝোতা বা শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজস্ব প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলমান এই যুদ্ধে তেহরানের যে অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে দেশটির কমপক্ষে দীর্ঘ ২৫ বছর সময় লেগে যাবে।
ইরান তাদের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করে পুনরায় নিজেদের পুনর্গঠন করতে সক্ষম হবে এই সুদীর্ঘ সময়েই, এমনটাই তিনি মনে করছেন।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে তেহরান একটি বিশেষ প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে খবর প্রকাশ পায়।
সংবাদকর্মীরা ঠিক এই বিষয়টি নিয়েই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে প্রশ্ন করেন এবং তেহরানের সঙ্গে আমেরিকার বর্তমানে কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আলোচনা চলছে কি না, তা জানতে চান।
উত্তਰ ট্রাম্প অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সাংবাদিকদের জানিয়ে দেন যে, মার্কিন প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন বা সম্মতি ছাড়া তারা কখনোই কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে না।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।