
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তীব্র বিতর্কের পরিবেশ ও চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। মূলত তাঁর ব্যক্তিগত পূর্বসংযোগ রয়েছে এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হওয়ার দিকে ধাবিত হলে লাতিন আমেরিকার এই দেশটিতে গুরুতর রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে গত বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফাইড অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে এই ঘোষণা দেন রাষ্ট্রপ্রধান। সেই ভিডিও বার্তায় পেনা বলেন, কোনো নির্দিষ্ট সময়ে যদি তাঁর কোনো ব্যর্থতা থেকে থাকে, তবে তিনি দেশবাসীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছেন এবং নাগরিকরা তাঁর প্রতি যে বিশ্বাস রেখেছিলেন, তার সঙ্গে কোনো ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা করার লেশমাত্র ইচ্ছা তাঁর ছিল না।
প্যারাগুয়ের উয়েনো ব্যাংক নামের আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরুর পরপরই মূলত এই তীব্র সংকট ও বিতর্কের সূত্রপাত ঘটেছিল। ইতোমধ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত হয়ে ওঠা এই ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের দাপ্তরিক ও গ্রাহকসেবামূলক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
দেশের আইনপ্রণেতারা রাষ্ট্রপ্রধান সান্তিয়াগো পেনার বিরুদ্ধে সরাসরি স্বার্থের সংঘাত এবং গুরুতর অসদাচরণের নানাবিধ অভিযোগ আনেন। কারণ তিনি গত বছর পর্যন্ত এই বিতর্কিত ব্যাংকটির মূল মালিকানাধীন কোম্পানির একজন ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
যদিও নিজের বিরুদ্ধে আনীত যাবতীয় অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে গেছেন প্রেসিডেন্ট পেনা। তবে তাঁর এই পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার ঠিক আগেই প্যারাগুয়ের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ আইনসভায় তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষে যথেষ্ট সংখ্যক ভোট পড়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আপলোড করা ওই ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পেনা আরও জানান যে, রাষ্ট্রের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা, দেশের ভেতরে সামাজিক শান্তি বজায় রাখা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সুরক্ষার বৃহত্তর স্বার্থেই তিনি সরে দাঁড়ানোর এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উয়েনো ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের মোট হিসাবধারী গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৩০ লাখের কাছাকাছি। এই হিসাব অনুযায়ী প্যারাগুয়ের মোট প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষই এই প্রতিষ্ঠানটির সেবা গ্রহণ করে থাকে।
সংকটময় এই ব্যাংকটিতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দেশের সরকারি বিভিন্ন তহবিলের অর্থ এবং বয়স্কদের পেনশন বাবদ বরাদ্দকৃত টাকাও জমা রাখা হয়েছিল। চলতি সপ্তাহের একদম শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার পর থেকেই লাখ লাখ গ্রাহক তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাব থেকে জমানো অর্থ তুলতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
উল্লেখ্য, বর্তমানের রাজনৈতিক সংকটে জর্জরিত ৪৭ বছর বয়সী সান্তিয়াগো পেনা এর আগে ২০২৩ সালের আগস্ট মাসের দিকে প্যারাগুয়ের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় নির্বাহী ক্ষমতা গ্রহণ করে প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার কাঁধে নিয়েছিলেন।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।