
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জে যাত্রাকালে ফেনীর রাস্তা থেকে বিপুল পরিমাণ শুঁটকিভর্তি একটি কাভার্ড ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রায় চার দিনের টানা অভিযาน শেষে ছিনতাইকৃত গাড়ি ও মালামাল উদ্ধার করার পাশাপাশি কুখ্যাত এই চক্রের চার সক্রিয় সদস্যকেও আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার মধ্যাহ্নলগ্নে ফেনী মডেল থানার পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর অপরাধের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়। পুলিশের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে যে, ছিনতাই করা গাড়িটি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল কুমিল্লায়, আর ভেতরে থাকা বিশাল পরিমাণ শুঁটকি অন্যত্র বিক্রির উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল জামালপুরে। সাধারণত এই চক্রটি এক এলাকা থেকে গাড়ি ছিনিয়ে নিয়ে অন্য জেলায় পণ্য বিক্রি করে থাকত।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে যাঁদের বিজ্ঞপ্তিতে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার মো. মনির হোসেন, একই জেলার দৌলতখান এলাকার মো. আক্তার হোসেন, নোয়াখালীর চরজব্বার থানার মো. বাবলু এবং কুমিল্লার বাঙ্গরা বাজার এলাকার মো. নাদিম। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর আদালতের আদেশে তাঁদের সবাইকে ইতোমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ৩১ অক্টোবর রাতে যখন চট্টগ্রামের আছদগঞ্জ এলাকা থেকে বিপুল মূল্যের শুঁটকি ক্রয় করেন ব্যবসায়ী শ্যামল দাস। ওই পণ্যের মোট আর্থিক মূল্য ছিল চল্লিশ লাখ বারো হাজার সাতশত পঁচাশি টাকা যা তিনি একটি কাভার্ড ভ্যানে করে নারায়ণগঞ্জের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে সেই সময় গাড়ির চালক আরিফ হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।
ওই গভীর রাতে গাড়িটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অঞ্চলের লালপোল এলাকার যাত্রাসিদ্ধি নামক স্থানে পৌঁছামাত্র একটি মাহিন্দ্রা পিকআপ তাদের গতি রোধ করে দাঁড় করায়। তিনজন সশস্ত্র ছিনতাইকারী ধারালো অস্ত্র হাতে গাড়িতে প্রবেশ করে ব্যবসায়ী ও চালককে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।
একপর্যায়ে তাদের গলায় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে হাত, পা ও মুখ শক্ত করে বেঁধে ফেলা হয় এবং ব্যবসায়ীর কাছে থাকা নগদ চৌদ্দ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের দুজনকেই সড়কের পাশের একটি জঙ্গলে ফেলে রেখে শুঁটকিভর্তি গাড়িটি নিয়ে ঘাতক চক্রটি ঢাকার দিকে পালিয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী শ্যামল দাস নিজে বাদী হয়ে পরবর্তীতে ফেনী মডেল থানায় একটি আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেন যার ভিত্তিতে মাঠে নামে পুলিশ। নোয়াখালী, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক বিশেষ টিম সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার মহাসড়কের ঢাকামুখী অংশের নির্মাণাধীন নতুন উড়ালসেতুর নিচ থেকে পরিত্যক্ত ও খালি অবস্থায় কাভার্ড ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়। একই দিনে বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে চক্রের চার সদস্যকে পাকড়াও করা হয়।
আটকদের দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে জামালপুর সদর উপজেলার একটি কোল্ড স্টোরেজের সামনে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয় ছিনতাই হওয়া সেই একশো ষাট বস্তা শুঁটকি যা অপরাধীরা বিক্রির উদ্দেশ্যে সেখানে লুকিয়ে রেখেছিল।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা আন্তঃজেলা এই ছিনতাই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে ওঁৎ পেতে থেকে পণ্যবাহী গাড়ি জিম্মি করে মালামাল লুট করতেন এবং পরে তা সুবিধাজনক স্থানে বিক্রি করতেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক সজল কান্তি দাশ গণমাধ্যমকে জানান যে, ব্যবসায়ীর দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মহাসড়কে এ ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম কঠোর হাতে দমনে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও নিরবচ্ছিন্নভাবে চলমান থাকবে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।