
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
২০১৬ সালের রিপাবলিকান পার্টির প্রাথমিক বাছাইপর্বে ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচক হিসেবে আবির্ভূত হলেও, পরবর্তীতে তাঁর অত্যন্ত বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহযোগী ও নীতিনির্ধারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন মার্কো রুবিও।
আগামী ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের পরবর্তী সময়ে রিপাবলিকান দলের নেতৃত্বের দৌড়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে জোরালোভাবে উচ্চারিত হয়ে আসছে রুবিওর নামটিও।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যে, সাধারণ ভোটারদের তীব্র পুঞ্জীভূত ক্ষোভের জেরে রিপাবলিকানরা অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়, যার প্রধান অনুঘটক ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত ও সমালোচিত ‘ইরান যুদ্ধ’।
যদিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাপ্তরিকভাবে এই যুদ্ধের সরকারি সিদ্ধান্তকে সমর্থন জুগিয়েছিলেন, তবুও তিনি ব্যক্তিগত পর্যায়ে এই সামরিক সংঘাত থেকে সবসময় কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে চলার কৌশল গ্রহণ করেছিলেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ালে জনসমর্থনহীন এই সংঘাতময় যুদ্ধপদ্ধতি থেকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও কিছুটা নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিতে পারবেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোরালো ধারণা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন থাকার সময় রুবিও মার্কিন প্রশাসনের ভেনেজুয়েলা বিষয়ক নীতিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন এবং কূটনৈতিক ও কৌশলগত দিকগুলো তদারকি করেন।
বিশেষ করে, একটি গোপন সামরিক অভিযানে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করা এবং দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন নেত্রী ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে সফল সমঝোতার মাধ্যমে বিশাল তেল ভাণ্ডার উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়ায় তাঁর অনন্য ভূমিকা ছিল।
পাশাপাশি, পার্শ্ববর্তী দেশ কিউবার ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হিসেবে দেশটির ওপর কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ ও চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার ক্ষেত্রেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা