
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচে রক্ষণভাগের খেলোয়াড় বিশ্বনাথ ঘোষকে হঠাৎ আক্রমণভাগে খেলানো নিয়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে সব বিতর্ক পেছনে ফেলে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তাঁর করা একমাত্র গোলের সুবাদেই ভুটানকে পরাজিত করে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ দল।
যদিও ম্যাচের শুরুটা আক্রমণভাগে খেলে হয়েছিল, তবে পুরো সময়জুড়ে মাঠে থাকা হয়নি বিশ্বনাথের। ম্যাচের চৌষট্টিতম মিনিটে তাঁকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ টমাস ডুলি এবং বদলি হিসেবে মাঠে নামান মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে। বদলি হিসেবে নেমেই মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে জয়সূচক গোল আদায় করে নেন ইব্রাহিম।
উল্লেখ্য যে, এর আগে আসিয়ান কাপের বাংলাদেশ জাতীয় দলে সুযোগ পাননি এই ফুটবলার। ভুটানের বিপক্ষে গোল করার মাধ্যমে যেন কোচ ডুলির পূর্বের সেই সিদ্ধান্তের ভুলটাই প্রমাণ করলেন ২৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। স্বয়ং কোচও তাঁর এই অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের কাছ থেকে এমন পারফরম্যান্সের আশা করেননি।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের কৌশল ও ভাবনা ব্যাখ্যা করেন কোচ টমাস ডুলি। তিনি জানান, ম্যাচের একটা নির্দিষ্ট সময়ে অতিরিক্ত দৌড়ানোর কারণে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন বিশ্বনাথ। আর সবাই জানেন যে তিনি মূলত বল পায়ে ধরে রাখার মতো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের খেলোয়াড় নন।
কোচ আরও উল্লেখ করেন, এমন একজন ফুটবলার তাঁদের প্রয়োজন ছিল যিনি মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে শামিত, রাকিব ও ফাহিমদের প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ওঠার পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি করে দিতে পারবেন। সেই কৌশলগত বিচারে মাঝমাঠের পজিশনের জন্য ইব্রাহিমকে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে হয়েছিল।
পরিস্থিতি বিবেচনায় শামিতকে আরও ওপরে তুলে দেওয়া হয় বলে জানান ডুলি। তাঁর ভাষ্যমতে, শামিত ১০ নম্বর পজিশনে প্রচুর পরিশ্রম করেছেন, নিচ থেকে বল নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আক্রমণভাগে সরবরাহ করেছেন; কিন্তু সেই মুহূর্তে বল জাލ জড়ানোর জন্য তিনি নিজে সামনে উপস্থিত ছিলেন না।
এই কারণে কৌশলগত পরিবর্তন এনে বিশ্বনাথকে তুলে নিয়ে ইব্রাহিমকে ১০ নম্বর পজিশনে এবং শামিতকে একেবারে আক্রমণভাগের ওপরে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন কোচ। তাঁর পরিকল্পনা ছিল, এতে শামিত গোলমুখের সামনে কিছুটা শক্তি সংরক্ষণ করে হেডের সাহায্যে গোল করার চেষ্টা করতে পারবেন।
সবশেষে কোচ স্বীকার করেন যে তিনি কখনোই কল্পনা করেননি ইব্রাহিম নিজে গোল করে বসবেন। তিনি ভেবেছিলেন ইব্রাহিম হয়তো সতীর্থদের দিয়ে কোনো গোল করাবেন, তবে দক্ষ ও ভালো মানের ফুটবলাররা ঠিকই এমন চমৎকার মুহূর্ত তৈরি করতে সক্ষম হন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা