
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
হিন্দু দেবতা শ্রীকৃষ্ণকে ‘বাঁকা’ শব্দে অভিহিত করার জেরে ভারতের বিতর্কিত ধর্মীয় বক্তা ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর মুখোমুখি আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাঁর এই অবমাননাকর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হয়েছে মানহানির মামলা, যা তাঁর ওপর চলমান আইনি চাপ বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই ধর্মীয় বক্তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও বক্তব্য ভারতের মূলধারার রাজনৈতিক অঙ্গনেও যথেষ্ট উত্তাপ ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক ময়দানে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ, যার প্রভাবে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ।
ঘটনা সংঘটিত হওয়ার ঠিক আগের দিনই সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদব এক জোরালো আহ্বান জানান। তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজক ও পৃষ্ঠপোষকদের প্রতি অনুরোধ করেন, যাতে তারা এমন বিতর্কিত এবং দায়িত্বহীন ধর্মীয় বক্তাদের কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন থেকে দূরে থাকেন।
সমাজবাদী পার্টি প্রধানের এই তীব্র সমালোচনার বিপরীতে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে দেশের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বি বিজেপি)। উত্তর প্রদেশ রাজ্য শাখা বিজেপির সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী পবিত্র রামচরিতমানস গ্রন্থ থেকে একটি বিশেষ শ্লোক উদ্ধৃত করে পাল্টা আক্রমণ শানান।
বিজেপি নেতা পঙ্কজ চৌধুরী মন্তব্য করেন যে, যাদের নিজেদের ব্যক্তিগত আচরণ এবং সামগ্রিক ইতিহাস চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ, তাদের অন্য কোনো ব্যক্তিকে উপদেশ দেওয়া বা জ্ঞান বিতরণ করা কিছুতেই মানায় না।
এর আগে নিজের এই বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার পর ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী সাফাই গেয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে সম্পূর্ণ ভক্তির আবেগ থেকেই তিনি সেই কথাগুলো উচ্চারণ করেছিলেন এবং এই ঘটনার পর তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমাও প্রার্থনা করেছিলেন।
তবে জনসাধারণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার পরও শেষ পর্যন্ত এই বিষয়টি পুরোপুরি আইনি প্রক্রিয়ার দিকে মোড় নেয়। ফলে সব মিলিয়ে এই জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তার ওপর আইনি চাপ ও সংকট আগের চেয়ে আরও মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা