
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি আড়তে গত সাতদিনের ব্যবধানে প্রতি বস্তা চালের দাম প্রায় পঁচিশ থেকে চল্লিশ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব এখনও খুচরা বাজারে এসে পৌঁছায়নি। সাধারণ ক্রেতারা আগের নির্ধারিত হারেই প্রতি কেজি চাল কিনতে পারছেন। তবে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, পাইকারি পর্যায়ে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকলে অচিরেই খুচরা বাজারেও এর বড় ধাক্কা লাগবে। জ্বালানি মূল্য সমন্বয়ের জন্যই খাদ্যপণ্যটির বাজারদর ওপরের দিকে উঠছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অপরদিকে রাজধানীজুড়ে মৌসুমী সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ লক্ষ্য করা যাওয়ায় সব ধরনের শাকসবজির দাম নিম্নমুখী রয়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের শীতকালীন কৃষিপণ্যের দাম কেজিতে বা প্রতিটিতে দশ থেকে বিশ টাকা পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। একমাত্র ব্যতিক্রম কেবল টমেটো, যার বাজারদর গত সপ্তাহের তুলনায় বেশ খানিকটা বেশি। তবে ডিম ও আমিষজাতীয় মাংসের বাজারদর আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে, যা ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা যেমন মিরপুর ছয় নম্বর, মিরপুর এগারো নম্বর এবং কারওয়ান বাজারের বিভিন্ন খুচরা দোকান ও পাইকারি গুদামে সরেজমিন ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে বাজার দরের এই তারতম্যের বিশদ বিবরণ উঠে এসেছে।
বর্তমানে খুচরা বাজারে মোটা জাতের গুটিস্বর্ণা চাল প্রতি কেজি সচল রয়েছে সাতচল্লিশ থেকে আটচল্লিশ টাকায়। মাঝারি মানের বিআর আটাশ চালের প্রতি কেজির জন্য ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে পঞ্চান্ন থেকে ছাপ্পান্ন টাকা। এছাড়া চিকন মিনিকেট চাল সত্তর থেকে পঁচাত্তর টাকা দরে এবং ঐতিহ্যবাহী নাজিরশাইল চাল প্রতি কেজি আশি টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
মিরপুর এগারো নম্বর এলাকার একজন চাল ব্যবসায়ী আমির হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত সপ্তাহে প্রতি বস্তা বিআর আটাশ চালের পাইকারি দর ছিল চব্বিশ থেকে আড়াই হাজার টাকা। বর্তমানে ওই একই পরিমাণ চালের বস্তাপ্রতি বিশ থেকে ত্রিশ টাকা বেশি পরিশোধ করতে হচ্ছে। তবে তার মতে, পাইকারি বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধি ন্যূনতম পঞ্চাশ টাকা না পৌঁছালে খুচরা পর্যায়ে তার সরাসরি কোনো প্রভাব পড়ে না।
কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের অপর চাল ব্যবসায়ী সোলায়মান মিয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাতদিন আগে প্রতি বস্তা মিনিকেট চালের পাইকারি মূল্য ছিল সাড়ে তিন হাজার টাকার কিছু বেশি। গত বুধবার সেই একই পণ্য তাকে কিনতে হয়েছে প্রায় তিন হাজার পাঁচশ নব্বই টাকায়। তবে নাজিরশাইল চালের পাইকারি ক্ষেত্রে এখনো কোনো পরিবর্তনের দেখা মেলেনি। ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, পরিবহন খরচ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য।
সবজি বাজারে সরবরাহ পর্যাপ্ত হওয়ায় শীতকালীন ফসলের দাম যথেষ্ট কমেছে। গত বৃহস্পতিবার বাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে আকারভেদে একেকটি ফুলকপি ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ টাকা এবং বাঁধাকপি সমপরিমাণ মূল্যে বিক্রি হয়। শিম প্রতি কেজি পঞ্চাশ থেকে ষাট টাকা এবং বেগুন পঞ্চাশ থেকে আশি টাকা দরে ক্রেতাদের কিনতে দেখা গেছে।
এছাড়া করলার দাম হ্রাস পেয়ে প্রতি কেজি দাঁড়িয়েছে পঞ্চাশ থেকে সত্তর টাকায়। পেঁপে ও মুলা বিক্রি হচ্ছে পঁচিশ থেকে ত্রিশ টাকা কেজিতে। ঝাল সল্টজাতীয় কাঁচা মরিচের দাম কমে প্রতি কেজি আশি টাকায় নেমেছে, যা সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের খরচ কিছুটা কমিয়েছে।
অন্যদিকে ব্যতিক্রম হিসেবে শুধু টমেটোর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। মিরপুর ছয় নম্বর বাজারের এক সবজি বিক্রেতা জুয়েল খন্দকারের বর্ণনা মতে, গত সপ্তাহে পঁচিশ থেকে ছাব্বিশ কেজির এক ক্রেট টমেটোর পাইকারি মূল্য ছিল তেইশ থেকে চব্বিশ শ টাকা। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেটি কিনতে হয়েছে সাতাশ থেকে আটাশ শ টাকা খরচ করে।
সবজির পাশাপাশি শীতকালীন বিভিন্ন শাকের আঁটির দামও বেশ কমেছে। মুলা, পালং ও শর্ষেশাক কুড়ি টাকায় এবং লাউশাক ত্রিশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লালশাক, ডাঁটাশাক ও পাটশাকের প্রতিটি আঁটি পনেরো টাকা মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে।
আমিষের বাজারে ডিম ও মুরগির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে পঞ্চাশ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির প্রতি কেজির মূল্য নির্ধারিত রয়েছে একশ নব্বই থেকে দুইশ টাকা এবং সোনালি মুরগি তিনশ দশ থেকে তিনশ কুড়ি টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা নিশ্চিত করেছেন যে এই পণ্যগুলোর দাম গত সপ্তাহের তুলনায় একই জায়গায় স্থির আছে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।