
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার অন্তর্গত রায়েরবাজার এলাকার কৃষি মার্কেটের সংলগ্ন সড়কে একটি বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাভার্ড ভ্যানে আকস্মিক বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার সংঘটিত এই নাশকতার ফলে পরিবহনটির চালক শারীরিক আঘাত পেয়ে জখম হয়েছেন এবং কুরিয়ার সার্ভিস সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে যান্ত্রিক বাহনটির ভেতরে থাকা বিভিন্ন পণ্যের চালান ও জরুরি কাগজপত্র পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সাধারণ মানুষ এবং ওই প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিবরণ অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টার দিকে উক্ত দুর্ঘটনাটি ঘটে। সেসময় গাড়িটি বেড়িবাঁধের রাস্তা দিয়ে হাজারীবাগের নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেলে চড়ে একদল দুষ্কৃতকারী সেখানে এসে অতর্কিতভাবে কাভার্ড ভ্যানটির গতি রোধ করে হামলা চালায়।
আক্রমণকারীরা প্রথমেই যানবাহনটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং পরবর্তী সময়ে সেখানে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করলে সঙ্গে সঙ্গে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়। এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের সহকারী ব্যবস্থাপক বা এজিএম জয়ন্ত চৌধুরী গণমাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন যে, পুড়ে যাওয়া কাভার্ড ভ্যানটির ভেতর দেশের বিভিন্ন ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির অতি গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক দলিলপত্র ছাড়াও সাধারণ গ্রাহকদের পাঠানো বিভিন্ন পার্সেল সংরক্ষিত ছিল।
ওই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলরা ক্ষোভ প্রকাশ করে উল্লেখ করেছেন যে তাদের প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক ও সুপরিকল্পিতভাবে হামলা এবং ভাঙচুর চালানো হচ্ছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের নিকট নিরাপত্তা দাবি করছেন। অন্যদিকে, মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসি আবদুল হালিম সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, এই নাশকতামূলক ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত অপরাধী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার জন্য পুলিশি প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এর প্রাক্কালে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের অফিস ও পরিবহনগুলোর ওপর একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা যায়। বিগত ২০ অক্টোবর হাজারীবাগ এলাকার সিকদার মেডিকেল কলেজের কাছাকাছি অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানের মূল কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছিল দুর্বৃত্তরা।
সেসময় হামলাকারীরা অফিসকক্ষ থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণের মূল যন্ত্র বা ডিভিআর খুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে সেদিনের হামলায় বেশ কয়েকটি ল্যাপটপসহ মোট ৩১ লাখ টাকার মূল্যের বিভিন্ন পণ্য লুট করা হয়েছে, যে ঘটনায় ইতোমধ্যে ১১ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।
ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা নিজেদের চিহ্নিত সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের জমির নির্ধারিত ভাড়া ওই সন্ত্রাসীকে পরিশোধ করার জন্য হুমকি দিয়ে আসছিল। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৫ অক্টোবর ভোরে হাজারীবাগের গুদামঘরে পেট্রল ঢেলে অগ্নিসংযোগের অপচেষ্টা চালানো হয় এবং ওই একই দিনে এক কর্মীকে মারধর করে তার মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনতাই করা হয়।
পরবর্তীতে গত ৩১ অক্টোবর রাতে রাজধানী শহরের ভিন্ন তিনটি এলাকায় এজেআরের পরিবহন বহরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের টোলপ্লাজার নিকটবর্তী স্থান, মৎস্য ভবন ক্রসিং এবং রায়েরবাগ এলাকায় এসব সহিংসতা সংঘটিত হয়েছিল, যার ফলে তাদের তিনটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উল্লেখিত সেই ধারাবাহিক হামলাগুলোর মধ্যে মৎস্য ভবন এলাকায় এক চালক মারাত্মকভাবে জখম হন এবং রায়েরবাগ অংশে একটি গাড়িতে পেট্রলবোমা বা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। এমনকি এরও পরে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে মিরপুর এলাকার ১১ নম্বরের চলন্তিকা মোড়ে অবস্থিত এজেআরের পল্লবী শাখার অফিসের সামনে দুটি ককটেল বোমা ফাটানো হয়, যার বিস্ফোরণে প্রতিষ্ঠানটির অপর এক কর্মী আহত হন।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।