
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
প্রকৃতিতে হেমন্তকাল আসতেই বাজারে মিলতে শুরু করেছে নানা পুষ্টিকর ও টাটকা খাবার। এই সময়ে সহজলভ্য বিশেষ কিছু সুপারফুড নিয়মিত ডায়েটে রাখলে শরীর থাকে সতেজ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পায় দারুণ শক্তি।
ঋতু বদলের এই সময়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমলকীর জুড়ি মেলা ভার। পুষ্টিবিদরা এই ক্ষুদ্র ফলটিকে পুষ্টির পাওয়ারহাউস হিসেবে অভিহিত করে থাকেন।
একটিমাত্র আমলকীতে সাধারণত কমলার তুলনায় প্রায় কুড়ি গুণ বেশি ভিটামিন সি পাওয়া যায়। পাশাপাশি এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ঠান্ডা লাগা, গলা ব্যথা কিংবা কাশির সমস্যা দূর করতে আমলকী অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
শারীরিক সুস্থতায় এটি যকৃৎ বা লিভার পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করার পাশাপাশি চুল ও ত্বকের সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্য উন্নত করে।
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে একটি করে তাজা আমলকী চিবিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া এর রস ঈষদুষ্ণ পানির সঙ্গে মিশিয়েও পান করার নিয়ম রয়েছে।
হেমন্তের বাজারে বর্তমানে সাদা মূলা এবং এর কচি সবুজ শাকের বেশ প্রাচুর্য দেখা যায়। অনেকে এই সবজিটি খেতে অপছন্দ করলেও এর গুণাগুণ জানলে খাদ্যতালিকায় রাখতে বাধ্য হবেন।
মূলান ও এর শাকে ভরপুর মাত্রায় ভিটামিন সি, ফলিক অ্যাসিড, ফাইবার এবং অ্যান্থোসায়ানিন রয়েছে।
দেহের ভেতর জমে থাকা ক্ষতিকর টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থ সফলভাবে শরীর থেকে অপসারণ করতে এটি বিশেষভাবে সাহায্য করে।
নিয়মিত মূলা খেলে পরিপাকতন্ত্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা সহজেই দূর হয়।
এতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান আসন্ন শীতকালের ঠান্ডা লাগা ও জ্বর থেকে দেহকে সুরক্ষিত রাখে।
খাবারের তালিকায় মূলা পাতলা টুকরো করে কেটে সালাদ হিসেবে অথবা এর নরম শাক হালকা ভাজি করে ভাতের সঙ্গে গ্রহণ করা যায়।
হেমন্তকালের অন্যতম প্রধান ও জনপ্রিয় সবজি হিসেবে শিম খাদ্যপ্রেমীদের কাছে বেশ সমাদৃত। এই সবজিটি কেবল খেতেই সুস্বাদু নয়, বরং উদ্ভিজ্জ আমিষ বা প্রোটিনের এক দারুণ উৎস।
শিমে প্রচুর পরিমাণে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ডায়েটারি ফাইবার, আয়রন এবং ক্যালসিয়াম বিদ্যমান রয়েছে।
কম ক্যালরির এই সবজিটি শরীরের বাড়তি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
শিমে থাকা ফাইবার উপাদান রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করে।
যাঁরা রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ায় ভুগে থাকেন, তাঁদের জন্য শিম খাওয়া অত্যন্ত উপকারী বলে বিবেচিত হয়।
বাসায় শিম-আলুর সুস্বাদু তরকারি, মজাদার শিম ভর্তা কিংবা ডালের সঙ্গে মিশিয়ে এটি রান্না করে খাওয়া যায়।
সূত্র: আজকের পত্রিকা