
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
হবিগঞ্জে সম্প্রতি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত উত্তেজনার জেরে দুটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে প্রকাশ, নিতাইরচক গ্রামের কয়েকটি নির্দিষ্ট বাড়িতে সম্প্রতি চুরির কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছিল। এই চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মূলত স্থানীয় দুই গ্রামের সাধারণ লোকজনের মাঝে পারস্পরিক উত্তেজনা তৈরি হতে শুরু করে।
পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে ধাবিত হয় এবং একপর্যায়ে উভয় গ্রামের উত্তেজিত বাসিন্দারা নানা ধরনের দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র হাতে নিয়ে সরাসরি সংঘর্ষে লিপ্ত হন। সংঘর্ষ চলাকালীন দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
এহেন মারমুখী ও হিংসাত্মক পরিস্থিতিতে গোটা এলাক জুড়েই এক ধরণের তীব্র আতঙ্ক ও ভয়ের পরিবেশ ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাতে বাধ্য হন।
উত্তেজনা প্রশমিত করার উদ্দেশ্যে স্থানীয় এলাকার প্রবীণ মুরব্বিরা এগিয়ে আসেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা চালান। তবে তাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় এবং সংঘর্ষ থামানো সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়।
পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার জোর প্রচেষ্টা চালায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য এ সময় পুলিশ বেশ কয়েকটি টিয়ার শেল ও ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে আক্রমণকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক ও সক্রিয় পদক্ষেপে শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষের তীব্রতা কমে আসে এবং পরিস্থিতি শান্ত হয়।
সূত্র: আজকের পত্রিকা