
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
যশোরে পরকীয়া সম্পর্কের সন্দেহের জেরে শাহানারা খাতুন নামের এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী আতিয়ার রহমানকে পুলিশ ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে। নিহত গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করার পর ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রীমা খাতুন গণমাধ্যমকে জানান, স্বামী আতিয়ারের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী শাহানারার পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। শাহানারার সঙ্গে অন্য কোনো পুরুষের অবৈধ পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে তীব্র সন্দেহ পোষণ করতেন স্বামী আতিয়ার রহমান।
এই সন্দেহ ও পারিবারিক বিরোধের জেরে অতীতে এই দম্পতির মধ্যে একবার বিবাহবিচ্ছেদও ঘটেছিল। পরবর্তীতে তাদের নিজেদের সন্তান মধ্যস্থতা করে এবং নানাভাবে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে মা শাহানারাকে পুনরায় তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।
ঘটনার দিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দা রীমা খাতুন সংবাদ পান যে শাহানারাকে গলায় ফাঁস দিয়ে বা শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
যশোর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে জানান, স্ত্রীর সঙ্গে অন্য কোনো পুরুষের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে এমন অন্ধ সন্দেহ থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া বাধে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন যে, এই বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনার একপর্যায়ে অভিযুক্ত স্বামী আতিয়ার রহমান তার স্ত্রী শাহানারাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অভিযুক্ত আতিয়ার রহমানকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তা যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা