
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুল পরিমাণ সার গুদামজাত করার অপরাধে কনক কুমার দত্ত নামের এক ব্যক্তিকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, নির্ধারিত এই আর্থিক দণ্ড যথাসময়ে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পরবর্তী ১৫ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ডের সাজা ভোগ করতে হবে।
গতকালের আগের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে, সুনির্দিষ্ট গোপন খবরের ভিত্তিতে এই আকস্মিক অভিযান পরিচালিত হয়। উক্ত দিন রাত সাড়ে এগারোটার দিকে তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের থানাপাড়া এলাকায় অবস্থিত অভিযুক্ত কনক কুমার দত্তের নিজ বাড়িতে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালীন সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটির নেতৃত্বে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তথা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোনাব্বর হোসেন। প্রশাসনের এই অতর্কিত পদক্ষেপে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা অবৈধভাবে সংরক্ষিত সারের বস্তাগুলো একে একে চিহ্নিত করেন।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, তল্লাশির ওই সময়টিতে কনক কুমার দত্তের বসতবাড়ি থেকে সর্বমোট ১১৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়। সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে এই সারগুলো সেখানে অসদুপায়ে জমিয়ে রাখা হয়েছিল বলে প্রশাসন নিশ্চিত করে।
উদ্ধারকৃত মোট ১১৭ বস্তা সারের মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের সারের সুনির্দিষ্ট হিসাবও প্রকাশ করেছে প্রশাসন। এর মধ্যে কৃষিকাজে ব্যবহৃত ৬০ বস্তা এমওপি বা মিউরেট অব পটাশ সার এবং ৩০ বস্তা ডিএপি বা ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট সার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এছাড়া জব্দ করা সারের এই বিশাল চালানের অবশিষ্ট অংশের মধ্যে আরও ১৫ বস্তা ইউরিয়া সার এবং ১২ বস্তা টিএসপি বা ট্রিপল সুপার ফসফেট সারও সেখানে মজুত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরবর্তীতে দেশের প্রচলিত সার ব্যবস্থাপনা আইন লঙ্ঘন করার অপরাধে তাঁকে এই দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোনাব্বর হোসেন বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, মূলত কৃষকদের না জানিয়ে এবং তাদের জন্য নির্ধারিত বরাদ্দকৃত সার অবৈধ উপায়ে নিজ বাড়িতে জমিয়ে রাখার জন্যই কনক কুমার দত্তকে সার ব্যবস্থাপনা আইনের আওতায় ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়া সমস্ত সার পরবর্তীতে নিরাপদে সরকারি গুদামে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের ওপর, যিনি ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বর্তমান সরকার নির্ধারিত সার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা উপেক্ষা করে যদি অন্য কেউ অবৈধভাবে সার সংরক্ষণ বা গুদামজাত করার অপচেষ্টা চালান, তবে তাদের সবার বিরুদ্ধেই কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাধারণ খেটে খাওয়া কৃষক সমাজের সার্বিক স্বার্থ ও অধিকার রক্ষার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঝটিকা অভিযান পরিচালনার ধারা অবিচলভাবে অব্যাহত রাখা হবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।