
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিভিন্ন সাংবিধানিক সংস্থা, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় প্রভুত্ব কায়েমের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক-এর মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় সৎ ও দক্ষ প্রার্থীর বদলে প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তিদের বসিয়ে কখনো দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব নয়।
ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন ও ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে লড়াই করেছিল স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিরোধী দলের এই শীর্ষ নেতা জানান, বর্তমানে সরকারি কর্ম কমিশন বা পিএসসি-র চেয়ারম্যানকে পদচ্যুত করা হয়েছে এবং কমিশনের অন্য সদস্যদেরও জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার নজির তৈরি হয়েছে। প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের নায্য দাবিকে স্বীকৃতি না দিয়ে উল্টো তাদের সঙ্গে মশকরা করা হচ্ছে বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শফিকুর রহমান আরও ব্যাখ্যা করেন যে, এ দেশের আপামর জনসাধারণের তীব্র প্রয়োজনেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী কখনো সংসদকে অর্থহীন বা নিষ্ক্রিয় করে রাখার ঘোষণা দিয়ে ময়দানে নামেনি বরং তারা সবসময়ই সংসদকে কার্যকর দেখতে চেয়েছে।
বিরোধী দলের নিজস্ব রাজনৈতিক নীতি স্পষ্ট করে তিনি জানান, সরকারের যেকোনো ভালো বা ন্যায়সঙ্গত উদ্যোগে তারা পূর্ণ সহযোগিতা জোগাবেন, তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো, কেবল সংখ্যাধিক্যের জোরে ভালো-মন্দ বা সঠিক-ভুল না ভেবেই একের পর একতরফা সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
পরিশেষে তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমান প্রশাসন খুব কম সময়ের ব্যবধানে এমন কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যেগুলোর তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ না করা হলে বিরোধী দল হিসেবে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বড় ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা