
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
যুক্তরাজ্যের লিভারপুল শহরে পা রাখলেই চোখে পড়বে, মার্সি নদীর তীর এবং নগরীর প্রধান প্রতীকগুলো নানা রঙের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে। ইউরোপের অধিকাংশ বড় আকারের আলোক উৎসবে প্রবেশমূল্য বেশ চড়া হলেও, লিভারপুলের মার্সি নদীর তীরের এই বর্ণিল আয়োজন সম্পূর্ণ অবৈতনিক ও সবার জন্য উন্মুক্ত।
এই উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য কোনো ধরনের প্রবেশদ্বারে লাইনে দাঁড়ানোর ঝক্কি পোহাতে হয় না। ‘টুগেদার’ বা ঐক্যের থিমকে সামনে রেখে এখানে প্রায় ছয় মিটার উচ্চতার পিয়োনি ফুল এবং জ্যাক-ইন-দ্য-বক্সের মতো বিষ্ময়জাগানিয়া শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হচ্ছে।
শিল্পকলা ও সাধারণ মানুষের মাঝে থাকা দূরত্ব ঘুচিয়ে পুরো শহরকে একটি প্রাণবন্ত মিলনমেলায় রূপান্তর করাই এই উৎসবের মূল লক্ষ্য।
অন্যদিকে, হ্যালোইনের প্রথাগত গা ছমছমে ভীতি জাগানিয়া সংস্কৃতি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসে গ্লুচেস্টারশায়ারের স্লিমব্রিজ ওয়েটল্যান্ড সেন্টার এক ব্যতিক্রমী ও অভিনব আয়োজন উপহার দিয়েছে।
যাদের কাছে হ্যালোইনের ভূতড়ে পরিবেশ বা ভীতিপ্রদ আবহ মোটেও আকর্ষণীয় মনে হয় না, তাদের জন্য এই আয়োজনটি একটি চমৎকার বিকল্প হিসেবে কাজ করছে।
এখানে কোনো ধরনের ভয়ের অবকাশ রাখা হয়নি, বরং স্থানীয় জলাভূমির আসল জীবজন্তুদের অবয়ব নিয়ে তৈরি বিশাল আকৃতির সব আলো ঝলমলে লণ্ঠন প্রকৃতির এক মায়াবী রূপ ফুটিয়ে তুলছে।
জলাভূমির নিজস্ব প্রাকৃতিক রূপের আদলে তৈরি দৈত্যাকার ব্যাঙ কিংবা মাছরাঙার মতো বিশাল সব হস্তনির্মিত লণ্ঠন পুরো পরিবেশকে এক জাদুকরী রূপ দান করে।
একই সঙ্গে লিংকনশায়ারের পেঁচা অবলোকন করা কিংবা মার্সহেডের কাঁচের আবাসের ভেতর থেকে ব্যাজার বা উদবেড়ালজাতীয় প্রাণীদের খাবার গ্রহণের দৃশ্য দেখার মতো আকর্ষণীয় আয়োজনগুলো বন্যপ্রাণীর প্রতি মানুষের গভীর কৌতূহল ও ভালোবাসাকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে।
শীতকালের এই দীর্ঘ ও কনকনে রাতগুলো কেবল কম্বলের নিচে গুটিসুটি মেরে অলস সময় কাটানোর জন্য নয়।
প্রকৃতির রূপ পরিবর্তনের এই ঋতু আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, রাতের অন্ধকার যতই দীর্ঘ হোক না কেন, আলো, শিল্প এবং মানবীয় উষ্ণতা একত্রিত হয়ে ঠিকই তাকে জাদুকরী ও উপভোগ্য করে তুলতে সক্ষম।
সূত্র: আজকের পত্রিকা