
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
শিবগঞ্জের মোকামতলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নতুন কার্ড হাতে পেয়েও চাল না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বেশ কয়েকজন অসহায় নারী। এই অনিয়মের শিকার হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকার কার্ডধারী সাধারণ মানুষ।
ভুক্তভোগী জরিনা বেগম জানিয়েছেন, নতুন কার্ড নিয়ে নির্দিষ্ট ডিলারের কাছে টানা দুই দিন ঘুরেও তিনি এক মুঠো চালও পাননি। উল্টো ডিলারপক্ষ থেকে তাঁকে আগামী মাসে আসার কথা বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অনুরূপ সমস্যার কথা জানিয়েছেন আরেক কার্ডধারী শাহিদা বেগম। তাঁর ভাষ্যমতে, কার্ড হাতে নিয়ে ডিলারের দোকানে যাওয়ার পর তাঁকে চাল দেওয়া হয়নি এবং চলতি মাসের ২০ তারিখের পরে আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে চালের বদলে জোরপূর্বক টাকা ধরিয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগও করেছেন একাধিক উপকারভোগী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমনই একজন কার্ডধারী জানান, মুরাদপুর এলাকার ডিলারের কাছে চালের জন্য গেলে বলা হয় দোকানে চাল নেই।
ওই উপকারভোগী চালের পরিবর্তে নগদ টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে চালের জন্যই অনড় থাকেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে নির্ধারিত ৩০ কেজি চালের চালের বদলে মাত্র ৪৫০ টাকা ধরিয়ে দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোকামতলা এলাকার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার মিজানুর রহমানের অধীনে মোট ৭৬৩ জন কার্ডধারী নিবন্ধিত রয়েছেন। এর মধ্যে নতুন কার্ডধারীর সংখ্যা হলো ২৬২ জন।
অভিযুক্ত ডিলার মিজানুর রহমান দাবি করেছেন যে, তাঁর ডিলারশিপে তালিকাভুক্ত সব কার্ডধারীর জন্যই কোটার সম্পূর্ণ চাল সঠিকভাবে এসে পৌঁছেছিল।
নতুন কার্ডধারীদের একটি বড় অংশ চাল না পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে ডিলার মিজানুর রহমান জানান, গত ২৬, ২৭ ও ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত নিয়মতান্ত্রিকভাবে চাল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি আরও সাফাই গেয়ে বলেন, নির্ধারিত এই সময়ের পরে যাঁরা দেরিতে চাল নিতে এসেছেন, মূলত তাঁদেরকেই নিয়মবহির্ভূতভাবে কার্ডপ্রতি ৪৫০ টাকা করে নগদ প্রদান করা হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা