
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
গত বাইশে অক্টোবরের রাতে ঘটে যাওয়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে তদন্তকারীরা নতুন সব তথ্য পাচ্ছেন। এই ঘটনার ঠিক আগের মুহূর্তগুলোর বিষয়ে বন্ধু দীপের দেওয়া বিভিন্ন জবানবন্দিতে অনেক অসঙ্গতি ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেছেন যে, নির্দিষ্ট ওই তারিখটিতে রাত দশটা বেজে আঠারো মিনিটে তাহসিফ, এক তরুণী এবং তিনি নিজে উত্তরা এলাকার আঠারো নম্বর সেক্টরের একটি পানশালায় প্রবেশ করেছিলেন।
এর পূর্বে ওই তরুণীর সঙ্গে ভিন্ন এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার বিষয়টি জানতে পেরে মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন তাহসিফ। মূলত এই ব্যক্তিগত জটিলতা কেন্দ্র করেই তাদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব চলছি।
দীপের তথ্য অনুযায়ী, পানশালায় পৌঁছানোর পরপরই তাহসিফ সেখানকার দায়িত্বরত কর্মীদের বিশেষভাবে অনুরোধ করেন যেন সাউন্ড সিস্টেমে কোনো বিষণ্ন বা দুঃখের গান বাজানো হয়। এরপর তিনজনে মিলে সেখানে বসে মদ্যপান শুরু করেন। মধ্যরাত পর্যন্ত ওই তরুণীর অন্য সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে তাহসিফের সঙ্গে তর্কবিতর্ক অব্যাহত থাকে।
কথোপকথনের একপর্যায়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে তাহসিফ ওই তরুণীকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করেন যে, তিনি ইতিমধ্যে ইয়াবা সেবন করেছেন এবং এর চেয়েও মারাত্মক কোনো নেশাদ্রব্য গ্রহণ করবেন। তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে জানান যে তিনি হেরোইনের মতো নেশাও করতে প্রস্তুত আছেন।
রাত বারোটার কাছাকাছি সময়ে পানশালা ত্যাগ করে তাহসিফ নিজের বাইকে করে ওই তরুণীকে উত্তরার আঠারো নম্বর সেক্টর এলাকার নিজ বাসায় নিরাপদে পৌঁছে দেন। এ সময় দীপও তার ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে তাদের পেছনে পেছনে সেখানে উপস্থিত হন।
বাসা থেকে বের হয়ে অতঃপর তাহসিফ ও দীপ দুজনে মিলে টঙ্গী বাজার এলাকার একটি বস্তিসংলগ্ন ফাঁকা মাঠের অভিমুখে যাত্রা করেন। দীপের বয়ান অনুযায়ী, ওই নির্দিষ্ট স্থানে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে তাহসিফের নিজের ছিল।
বস্তির কাছাকাছি পৌঁছে তারা তাদের মোটরসাইকেলগুলো নিরাপদ দূরত্বে রেখে পায়ে হেঁটে ভেতরের মাঠের দিকে এগিয়ে যান। দীপ জানান, ওই সময় সেখানে স্থানীয় কিছু মাদকসেবী ও চিহ্নিত কারবারিসহ বেশ কিছু লোক উপস্থিত ছিল।
সেখানে পৌঁছানোর পর তাহসিফ অত্যন্ত উচ্চস্বরে চিৎকার করে হেরোইন দাবি করতে থাকেন এবং এর দাম বাবদ যত অর্থ প্রয়োজন তা দিতেও সম্পূর্ণ সম্মত হন। পরবর্তীতে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করে তিনি তা সেবন করেন।
পানশালায় প্রচুর মদ্যপানের পর অতিরিক্ত এই হেরোইন সেবনের ফলে তাহসিফ নিজের মানসিক ও শারীরিক নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে ফেলেছিলেন বলে জোরালো দাবি করেন তার সঙ্গে থাকা বন্ধু দীপ।
ঠিক এই মাদক সেবনের মুহূর্তেই সেখানে পুলিশের একটি দল আকস্মিক উপস্থিত হয়। দীপের ভাষ্য মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের গাড়ি বা উপস্থিতি বুঝতে পেরেই চারপাশের মাদক কারবারিরা দ্রুত সটকে পড়েন।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দীপ নিজেও জীবন বাঁচাতে দৌড়ে নদীর তীরের দিকে চলে যান। পরবর্তীতে তিনি তুরাগ নদীর তীরের উনত্রিশ নম্বর বৈদ্যুতিক খুঁটির আড়ালে গিয়ে আত্মগোপন করেন।
এই পুরো ঘটনার ডামাডোলে তিনি তাহসিফের কাছ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এখন এই শেষ মুহূর্তগুলোতে ঠিক কী ঘটনা ঘটেছিল, তা নিয়েই পুলিশি তদন্তের মূল চাবিকাঠি নিহিত রয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা