
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
চাঁদপুর অঞ্চল নৌ পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমানসহ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার বিভিন্ন কর্মকর্তা আকতার হাওলাদার নিহত হওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই হত্যাকাণ্ডের সমস্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ উল্লেখ করে বরিশাল জেলা পুলিশ ইতিমধ্যে উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষ বরাবর একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রেরণ করেছে।
উক্ত পুলিশি প্রতিবেদনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে যে, গত ২৯ অক্টোবর ভোর ৫টার সমসাময়িক সময়ে হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়নের আওতাধীন ওরাকুলের পূর্ব পার্শ্বে মেঘনা নদীর নির্দিষ্ট বালুমহাল সীমানায় ৮ থেকে ১০ জন জেলে মাছ শিকার করতে গিয়েছিলেন। সেই সময় অজ্ঞাতপরিচয় কোনো প্রতিপক্ষ দলের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের ওই বিশেষ মুহূর্তে প্রতিপক্ষের নিক্ষিপ্ত রাবার বুলেটের আঘাতে আকতার হাওলাদারের বুক ও ডান কাঁধ মারাত্মকভাবে জখম হয় এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। একই সঙ্গে এই সংঘর্ষের মাঝে পড়ে আব্দুল ব্যাপারী নামের অপর একজন ব্যক্তিও আহত হন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পুরো বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন বরিশাল জেলা পুলিশের মুলাদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আমান বান্না। তিনি গণমাধ্যমকে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই ঘটনার বিষয়ে তাঁর কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই এবং এটি মূলত তাদের কার্যপরিধিভুক্ত বিষয়ও নয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আমান বান্না আরও যোগ করেন যে, পুরো বিষয়টি বর্তমানে নৌ পুলিশের একচেটিয়ে তদন্তাধীন রয়েছে। এই আকস্মিক ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার বা পক্ষ যদি কোনো মামলা দায়ের করতে ইচ্ছুক হয়, তবে তাদের অবশ্যই নৌ পুলিশের কাছে গিয়ে মামলা করতে হবে এবং পরবর্তীতে স্থানীয় থানা সেই মামলার তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।
অন্যদিকে, নৌ পুলিশের বরিশাল অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. ইমরান হোসেন মোল্লা জানিয়েছেন যে, মেঘনা নদীতে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার আদ্যোপান্ত জানিয়ে তাঁরা একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন যথাযথ কতৃপক্ষের দপ্তরে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তবে এর বাইরে এই বিষয়ে মুখ খুলতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
সূত্র: আজকের পত্রিকা