
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে শখ থেকে শুরু করা নার্সারি ও আম চাষ এখন পুরোপুরি একটি লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপ নিয়েছে। উদ্যোক্তা রবিউল ইসলামের বাগান থেকে আমের আয় প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালে কল্যাণভোগ আমের সায়ন বিক্রি করে তাঁর মোট আয় হয়েছিল ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা। পরের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে সেই আয় এক লাফে বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় দুই লাখ টাকায়, যা তাঁর বাণিজ্যিক সাফল্যের পথকে আরও প্রশস্ত করে।
রবিউল ইসলামের সুদূরপ্রসারী একটি স্বপ্ন রয়েছে যে দেশের সাধারণ মানুষ যেন কেবল নির্দিষ্ট মৌসুমেই নয়, বরং সারা বছরই তুলনামূলক কম দামে আম উপভোগ করতে পারেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যই তিনি প্রতিনিয়ত নতুন এবং ভিন্ন জাতের আম অনুসন্ধানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
নিজের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পেছনের দীর্ঘ যাত্রার কথা স্মরণ করে রবিউল জানান যে ১৯৯৭ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরপরই তিনি ছাত্রাবস্থায় নার্সারি ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীতে সঠিক জাতের আম নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে তিনি নিজে মাদার গাছ তৈরি করতে শুরু করেন এবং তখন থেকেই বাণিজ্যিক বাগান করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
দীর্ঘ প্রস্তুতি শেষে ২০১৮ সালে তিনি কেবল নার্সারির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নিজে বাণিজ্যিকভাবে আমবাগান গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি মাত্র দেড় বিঘা জমি লিজ বা ভাড়া নিয়ে সেখানে কল্যাণভোগ আমের সায়ন স্থাপন করেন এবং অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে গাছগুলোর পরিচর্যা করতে থাকেন।
প্রাথমিক এই পরিচর্যার পর তিনি একে একে অন্যান্য উন্নত জাতের সায়নও গ্রাফটিং বা জোড়কলম করার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেন। তাঁর সেই সময়ের ছোট্ট একটি বাগানই পরবর্তীতে তাঁর জীবনের বিশাল সব স্বপ্নের শক্ত ভিত্ততিতে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা