
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
হাওরের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নির্মিত অষ্টগ্রাম-বাজিতপুর ডুবো সড়কের নির্দিষ্ট কিছু সংস্কারকৃত অংশে চরম জনদুর্ভোগের চিত্র সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে প্রকাশ পেয়েছে। অষ্টগ্রামের বাহাদুরপুর এলাকা থেকে কারানল সেতুর পূর্ব দিক পর্যন্ত এবং বাজিতপুর উপজেলার হুমায়ুনপুর অঞ্চলের পাঁচরাস্তার মোড় থেকে শুরু করে হুমায়ুনপুর সংযোগস্থল পর্যন্ত দীর্ঘ এলাকার বিভিন্ন অংশে মারাত্মক খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকার মানুষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই নয় কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি তৈরি হওয়ার মাত্র দুই থেকে তিন বছরের মাথায় একবার মেরামতের কাজ করা হয়েছিল। মূল সিসি ঢালাইয়ের ওপর নামমাত্র এক থেকে দেড় ইঞ্চি পুরুত্ব দিয়ে এই সংস্কার সম্পন্ন করা হয়েছিল। সেই অপরিকল্পিত সংস্কারকাজে ব্যবহৃত কংক্রিট ও পাথরের টুকরা এবং বালু দ্রুত উঠে গিয়ে পিচঢালাইয়ের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের জন্ম দিয়েছে।
মেরামত সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই, বিগত দুই বছর যাবৎ ওই নির্দিষ্ট অংশগুলোতে নিয়মিত ভাঙন দেখা দিচ্ছে। অথচ কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের দাপ্তরিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে জানা যায়, বহু আকাঙ্ক্ষিত অষ্টগ্রাম-বাজিতপুর ডুবো সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০১১ সালের দিকে এবং তা শেষ হয়েছিল ২০১৪ সালে।
যদিও প্রকল্পটির প্রাতিষ্ঠানিক মেয়াদ নির্ধারিত ছিল ২০১৮ সাল পর্যন্ত, পরবর্তীতে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান নিজ দায়িত্বে সেটি সংস্কার করে দিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে জনস্বার্থে নতুন করে কোনো ধরনের মেরামতের উদ্যোগ বা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়নি।
এই রুটের করুণ দশার কারণে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চালকরা প্রতিনিয়ত নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। একসময়ে নিয়মিত এই সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পরিচালনা করতেন স্থানীয় মোটরচালক হাফিজ মিয়া।
বর্তমান পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান যে, একান্ত বাধ্য না হলে কেউ আর এই পথে গাড়ি নিয়ে আসতে চান না। উঁচু স্থান থেকে নিচে পড়ার কারণে যানবাহনের ব্যাটারির স্থায়িত্ব দ্রুত শেষ হয়ে যায় এবং গাড়ির বিভিন্ন সংযোগস্থল প্রায়শই ভেঙে যায়।
যাত্রাপথে অতিরিক্ত সময় অপচয় হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন এই চালক। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা হলো কর্তৃপক্ষ হয় সম্পূর্ণ সড়কটি নতুন করে সংস্কার করবে, নতুবা দুর্বল উপরিভাগের প্লাস্টার বা সিসি ঢালাই সম্পূর্ণ তুলে ফেলবে, যাতে চলাচলের উপযোগী মসৃণ পরিবেশ ফিরে আসে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা