
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
কক্সবাজার যাওয়ার পথে শিক্ষকদের বহনকারী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা পুকুরে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দুই শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন এবং কমপেক্ষে ত্রিশজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
ভোররাতের দিকে এই দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয়। সে সময় চারপাশের পরিস্থিতি অন্ধকার থাকায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো উদ্ধারকারী দল উপস্থিত না থাকায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও পাশের একটি ইটভাটার শ্রমিকেরা অবিলম্বে মানবিকভাবে উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
সাহায্যকারীরা বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের একে একে টেনে বাইরে বের করে আনেন। পরবর্তীতে দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে কেরানীহাটসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই ওই দুই শিক্ষকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। তবে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন এবং আহতদের বর্তমান শারীরিক অবস্থার সুনির্দিষ্ট বিবরণ সম্পর্কে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত তথ্য সংবাদমাধ্যমকে জানাতে পারেনি।
খবর পেয়ে দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আবসার পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি গণমাধ্যমকে জানান যে, বাসটি নিয়ন্ত্রণচ্যুত হয়ে সোজা পুকুরের পানিতে গিয়ে ডুবে যায় এবং এতে দুই শিক্ষকের প্রাণহানি ও ৩০ জন আহত হন।
ভোরে দুর্ঘটনা ঘটায় স্থানীয় বাসিন্দারাই মূলত প্রথমে আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন এবং পরবর্তী সময়ে হাইওয়ে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নেয়। বর্তমানে দুর্ঘটনা কবলিত বাসটিকেও সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় জন সাধারণের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের জোরালো অভিযোগ অনুযায়ী, বিগত মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে ব্যস্ততম চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনার হার আশঙ্কাজনক হারে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এলাকাবাসীর সুনির্দিষ্ট মতে, এই মহাসড়কে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনাগুলো স্থায়ীভাবে রোধ করতে হলে অতিদ্রুত এই সড়কটিকে ছয় লেনে উন্নীতকরণের চলমান প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা