
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মার্কিন রাজনীতিতে বড় ধরণের প্রশাসনিক রদবদল ঘটিয়ে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ পদে পরিবর্তন এনেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৬৯ বছর বয়সী সুসি ওয়াইলস গত বৃহস্পতিবার রাতে নিজের পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে সুসি ওয়াইলস এখন থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।
হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফের পদটিকে সাধারণত মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তরের অন্যতম অত্যন্ত প্রভাবশালী একটি পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কারা সাক্ষাৎ করতে পারবেন তা নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি এই পদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি হোয়াইট হাউসের প্রশাসনিক কর্মীদের পরিচালনা করেন। এছাড়া প্রেসিডেন্টের দৈনিক সময়সূচি নির্ধারণ করা এবং সরকারের অন্যান্য বিভাগের সঙ্গে আইনপ্রণেতাদের যোগাযোগের সমন্বয় সাধনের কাজটিও তিনি করে থাকেন।
অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান বাস্তবায়নে মুখ্য ভূমিকা পালনের সুবাদে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি রয়েছে মিলারের। প্রতিদিন তিন হাজার করে অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন তিনি। মার্কিন অভিবাসন কর্মকর্তারা এই লক্ষ্য পূরণের তাগিদেই দেশের নানা প্রান্তে সাধারণ জনপদে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেন।
এই সমস্ত ব্যাপক অভিযانের ফলে ক্রমান্বয়ে এমন সব ব্যক্তিরাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটকা পড়তে শুরু করেন, যাদের কোনো ধরনের অপরাধের রেকর্ড ছিল না। শুধু তাই নয়, এদের অনেকেই আবার যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বসবাস করে আসছিলেন। তবে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মাঝে এই ধরণের কঠোর অভিবাসন অভিযানের পক্ষে জনসমর্থনের মাত্রা বেশ কম দেখা গেছে।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নজরদারি ও সরকারি সংস্কারসংক্রান্ত কমিটির শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাট সদস্য রবার্ট গার্সিয়া জানিয়েছেন যে মিলারের অভিবাসননীতিগুলো নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। তিনি স্পষ্টভাবে মন্তব্য করেছেন যে স্টিফেন মিলারের উচিত এখনই একজন ভালো আইনজীবী নিয়োগ করা।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারি প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর ট্রাম্পের যে দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টা, তার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন মিলার। ২০২৫ সালে বাস্তবায়িত ওই কাঠামোগত উদ্যোগের পরিণামে শেষ পর্যন্ত হাজার হাজার সরকারি চাকরিজীবী তাদের চাকরি হারাতে বাধ্য হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম, বৈচিত্র্যমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের তৈরি হওয়া সংঘাতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন মিলার। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর অবস্থানের একজন জোরালো সমর্থক হিসেবে পরিচিত তিনি।
ক্যারিবীয় সাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে মাদক পরিবহনের সন্দেহে মার্কিন নৌযানের ওপর চালানো প্রাণঘাতী সামরিক অভিযানের পক্ষেও প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিলেন মিলার। যদিও এই ধরনের সামরিক হামলার বৈধতা নিয়ে গুরুতর আইনি প্রশ্ন অতীতেও উঠেছিল এবং এখনো রয়েছে।
ইরানের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন মিলার। তেহরানকে সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করা এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর জন্য হুমকি সৃষ্টির সক্ষমতা খর্ব করার উদ্দেশ্যে নৌ অবরোধ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার পক্ষে তিনি জোরালো সওয়াল করেছেন।
তবে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে রিপাবলিকানরা সাধারণ ভোটারদের সমর্থন হারানোর পরও মিলার তাঁর পূর্বের অবস্থানে অনড় রয়েছেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করা মার্ক শর্ট মনে করেন, মিলারকে এই পদে এনে ট্রাম্প এমন একজনকে বেছে নিয়েছেন যিনি তাঁর প্রতি শতভাগ অনুগত।
মার্ক শর্ট তাঁর এক সাক্ষাৎকারে আরও উল্লেখ করেছেন যে মিলার অভিবাসন সংক্রান্ত জটিলতা এবং কংগ্রেসের চলমান তদন্তের মতো কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে লড়াই করতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছেন। তাঁর মতে, এই নিয়োগ থেকে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের দ্বিদলীয় আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় উচ্চাশা পোষণের কোনো সুযোগ নেই।
ইরান যুদ্ধের জেরে ডেমোক্র্যাটদের তীব্র অভিশংসনের হুমকির মুখে থাকা মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিলারের এই নতুন পদোন্নতিকে অত্যন্ত উষ্ণ ভাষায় স্বাগত জানিয়েছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা