
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র বা সিডিসির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালে দেশটিতে হামের সংক্রমণে চারজন মারা গেছেন। যদিও কেন্দ্রীয় এই সংস্থাটির তৈরি করা জাতীয় মৃত্যুর সামগ্রিক হিসাবের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানীয় অঙ্গরাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দেওয়া পরিসংখ্যানের কিছুটা অমিল পাওয়া গেছে। বিশেষ করে এই মারাত্মক প্রাদুর্ভাবের কবলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো মৃত্যুর সংখ্যার সঙ্গে সিডিসির তথ্যের সরাসরি ফারাক রয়েছে।
পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে যে, চলতি বছর তাদের এলাকায় হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ছয়জন মানুষ। একই সময়সীমার মধ্যে রাজ্যটিতে নতুন করে ১ হাজার ৪৮৭ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
মূলত কোন পদ্ধতিতে এবং কী উপায়ে হামে মৃত্যুর ঘটনাগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে শ্রেণিবদ্ধ বা তালিকাভুক্ত করা হবে, তা নিয়েই এখন চলছে বড় ধরনের বিতর্ক। আর এই বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র।
পেনসিলভানিয়া রাজ্য সরকারের নিজস্ব নীতিমালা ও নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির দেহে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার পর যদি পরবর্তী ত্রিশ দিনের মধ্যে তাঁর মৃত্যু ঘটে, তবে সেই মৃত্যুকে ‘হাম-সংশ্লিষ্ট মৃত্যু’ হিসেবে সরকারিভাবে নথিভুক্ত করা হয়। তবে যদি মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ হামের সংক্রমণ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং ভিন্ন কোনো ঘটনা বা জটিলতা হয়, কেবল তখনই তা এই নির্দিষ্ট হিসাবের বাইরে রাখা হয়।
এর আগে গত আগস্ট মাসে পেনসিলভানিয়া প্রশাসন জানিয়েছিল যে, টিকা গ্রহণ করেননি এমন দুজন ব্যক্তি হামের সরাসরি সংক্রমণে মারা গেছেন। সিডিসি কর্তৃপক্ষ শুরুতে এই দুটি মৃত্যুর ঘটনাকে তাদের কেন্দ্রীয় জাতীয় হিসাবের তালিকায় যুক্ত করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র, যিনি মূলত তাঁর টিকাবিরোধী অবস্থানের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত, এই হিসাব নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন। তাঁর প্রধান প্রশ্ন ছিল যে, আসলেই হাম ওই দুই ব্যক্তির মৃত্যুর মূল কারণ ছিল কি না কিংবা তাঁদের প্রয়াণের পেছনে এই রোগটির আদতে কোনো ধরনের ভূমিকা ছিল কি না। কেনেডির এই জোরালো আপত্তির মুখেই সিডিসি পরবর্তীতে আলোচিত সেই মৃত্যুগুলো তাদের জাতীয় পরিসংখ্যানের হিসাব থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয়।
সূত্র: আজকের পত্রিকা