
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের তাৎপর্য তুলে ধরে বিএনপি নেতা তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, ২০২৪ সালে ৭ নভেম্বরের সেই পরাজিত অপশক্তির চূড়ান্ত পরাজয় ঘটেছে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিল মূলত স্বাধীনতা অর্জনের পবিত্র লক্ষ্য নিয়ে। এর বিপরীতে ২০২৪ সালের আন্দোলন ও সংগ্রাম ছিল মূলত দেশ এবং দেশের সাধারণ জনগণের স্বাধীনতা রক্ষা করার লড়াই।
দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার্থে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে দেশের সব স্তরের জনতা রাজপথে নেমে এসে প্রতিরোধ গড়েছিল, ঠিক তেমনিভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও সিপাহি ও জনতা একত্রে রাজপথে নেমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী সমস্ত ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছিল।
তারেক রহমান ৭ নভেম্বরকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের একটি ‘ম্যাগনাকার্টা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জানান, কালক্রমে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে ১৯৭৫ সালের ওই দিনটি মূলত দেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণ করে দেওয়ার দিন ছিল।
যতবারই বাংলাদেশ এই ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের নির্ধারিত পথরেখা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, ঠিক ততবারই এ দেশের স্বাধীনতা এবং সাধারণ মানুষের সার্বভৌমত্ব গভীর হুমকির মুখে পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি স্মরণ করেন যে, ১৯৭৫ সালের ২ নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে তাঁর পরিবারের সদস্যদেরসহ সপরিবারে গৃহবন্দী করা হয়েছিল।
স্বাধীনতার মহান ঘোষককে এভাবে কারাবন্দী রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী যেসব গভীর চক্রান্তের সূচনা করা হয়েছিল, সিপাহি ও জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই সমস্ত ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত কঠোরহস্তে প্রতিহত করেছিল।
এই সমস্ত ঐতিহাসিক ঘটনার কারণেই দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী এবং গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর একটি অনন্য ‘জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর’ হিসেবে চিরকাল গণ্য হয়ে আসছে।
এই ঐতিহাসিক দিনটিতেই ‘আমরা বাংলাদেশি’ নামক স্বকীয় পরিচয় নির্ধারণের মূল ভিত্তিভূমি রচিত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান।
তিনি আরও বলেন যে, দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী—যাঁরা এই স্বাধীন বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেছেন, নাগরিক হিসেবে তাঁদের সবার একটাই গর্বিত অভিন্ন পরিচয় রয়েছে আর তা হলো “আমরা বাংলাদেশি”।
এই অনন্য সাধারণ পরিচয়টিই পরবর্তীতে এ দেশের সকল মানুষকে একটি সুদৃঢ় ও ঐক্যবদ্ধ জাতিতে রূপান্তরিত করেছিল বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, যতদিন পর্যন্ত এই বাংলাদেশ মানচিত্রে থাকবে, ততদিন পর্যন্ত ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পূর্ণভাবে প্রাসঙ্গিক থাকবে।
ঐতিহাসিক এই দিনের মূল নায়ক ছিলেন এ দেশেরই দেশপ্রেমিক বীর সিপাহি এবং জনতা—এমনটাই তিনি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা