
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় একটি দ্রুতগতির ঘাতক ট্রাকের চাপায় অবুঝ শিশুসহ একই পরিবারের তিনজন এবং একজন চালকসহ মোট চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে মেলান্দহ উপজেলার বুরুঙ্গা এলাকায় ব্যস্ততম জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়।
নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। তাঁরা হলেন ইসলামপুর উপজেলার ইন্দুল্লামারী এলাকার বাসিন্দা মোরশেদ আলম (২৫), তাঁর সহধর্মিণী ইকরামা (২৩) এবং এই দম্পতির মাত্র আট মাস বয়সী শিশুকন্যা রিফা। এ ছাড়া নিহত অপর ব্যক্তি মোটরসাইকেলচালক লিখন আকন্দ (৩২), যাঁর নির্দিষ্ট ঠিকানা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে বিস্তারিত জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে মেলান্দহের শিমুলতলী এলাকা থেকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় চড়ে জামালপুর শহরের পানে রওনা দিয়েছিলেন ওই পরিবারের তিনজন সদস্য।
যাত্রাপথে বিপরীত দিক থেকে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ছুটে আসা একটি ট্রাক প্রথমে সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
মোটরসাইকেলটিকে পেষণ করার পরপরই নিয়ন্ত্রণহীন ট্রাকটি ওই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ওপর উঠে গিয়ে সেটিকে মারাত্মকভাবে পিষে দেয়, যার ফলে যানটি সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায়।
এই ভয়াবহ সংঘর্ষের ফলে অটোরিকশায় থাকা একই পরিবারের তিনজন যাত্রী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এবং তাদের নিথর দেহ সড়কে লুটিয়ে পড়ে।
ঘটনার সময় মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহী এবং অটোরিকশার চালক গুরুতর জখম হন। আশপাশের মানুষ দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
পরবর্তীতে তাঁদের অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার তাগিদে তাঁদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে নেওয়ার পথেই লিখন আকন্দের মৃত্যু ঘটে।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতদের মরদেহগুলো উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে থানায় নিয়ে আসে।
দুর্ঘটনা ঘটানোর পর ঘাতক ট্রাকটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চালান চালক। পরবর্তীতে স্থানীয় জনতা মেলান্দহের মালঞ্চ এলাকায় অবরুদ্ধ করে ট্রাকটি থামান, তবে চালক সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
পুরো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক গণমাধ্যমকে জানান, এই ব্যাপারে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ঘাতক গাড়িটিকে জব্দ করা হয়েছে এবং চালককে গ্রেফতারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।