
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
দীর্ঘদিন ধরে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত কোনো রোগীর সেবা করতে করতে অনেক সময় সেবাদানকারী পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মারাত্মক আবেগীয় ক্লান্তি বা বার্নআউট তৈরি হতে পারে। রোগীদের শারীরিক কষ্ট ও মৃত্যুর দৃশ্য দেখতে দেখতে মনে যে গভীর শোক ও মানসিক চাপ জমে, তা প্রথমে নিজের কাছে স্বীকার করে নেওয়া প্রয়োজন। নিজের কষ্ট বা আবেগকে মনের মধ্যে চেপে না রেখে তা কোনো বিশ্বস্ত বন্ধুর কাছে প্রকাশ করা উচিত। এর পাশাপাশি, প্রয়োজনে কোনো পেশাদার কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়াকে কোনো দুর্বলতা হিসেবে না দেখে বরং নিজেদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের একটি অত্যন্ত কার্যকর উপায় বলে মনে করা উচিত।
পেশাগত বা পারিবারিক দায়িত্ব পালনের সময় যেমন শতভাগ মনোযোগ দেওয়া জরুরি, তেমনই কেয়ারগিভিং বা সেবাদানের নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার পর ব্যক্তিগত জীবনে ফিরে আসাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সারাদিনের ধকল ও রোগীর নানা চিন্তাভাবনা দিনশেষেও মাথায় বয়ে বেড়ালে তা দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক মানসিক অবসাদের সৃষ্টি করতে পারে। তাই কাজের সময় এবং ব্যক্তিগত অবসর সময়ের মধ্যে একটি স্পষ্ট ও সুস্থ সীমানা বজায় রাখা আবশ্যক।
সেবাদানকারীদের মানসিক সুস্থতার বিষযটি তাদের শারীরিক সুস্থতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রতিদিন রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো, সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা এবং নিয়মিত হালকা ধরনের ব্যায়াম করা শরীরকে সতেজ ও চাঙা রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া কাজের ব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে পরিমিত পানি পান করা এবং দীর্ঘক্ষণ একটানা পরিশ্রম না করে ছোট ছোট বিরতি নেওয়া শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
যারা মূলত প্যালিয়েটিভ কেয়ার বা সেবামূলক কাজ দিয়ে থাকেন, তারা সবাই মিলে একত্রিত হয়ে নিজেদের কঠিন বা জটিল কেসগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে পারেন। এ ধরনের দলগত আলোচনা তাদের ভেতরের মানসিক চাপ অনেকটাই হালকা করতে সহায়তা করে। এই পারস্পরিক সমর্থন ও সহমর্মিতাই এই চ্যালেঞ্জিং পেশা বা সেবামূলক কাজে দীর্ঘসময় টিক থাকার সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা