
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ইউরোপীয় ভূখণ্ডজুড়ে বেশ কদিন ধরে বাণিজ্যিক শীতলীকরণ যন্ত্রে অনলাইন অপরাধ চক্রের ধারাবাহিক হানা দেওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। ফরাসি রক্ত ভান্ডার কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে তাদের কোল্ডস্টোরেজ ব্যবস্থার তিনটি আলাদা স্থানে অনভিপ্রেত ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
অনলাইন অনুপ্রবেশকারীরা দূর থেকে যন্ত্রের উষ্ণতা ও বরফ জমার মাত্রা অস্বাভাবিক রকম বাড়িয়ে দেয়। এই ডিজিটাল আগ্রাসনের মূল লক্ষ্য ছিল কুলওয়ার্ড নামক একটি বিশেষ শীতলীকরণ যন্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
মূল লক্ষ্যবস্তু অন্য হলেও ফরাসি রক্ত ব্যাংক কেবল পার্শ্ববর্তী আঘাতের শিকার হিসেবে এর মাঝে পড়ে যায়। এমন পরিস্থিতির মুখে পড়ে অতি মূল্যবান চিকিৎসাসামগ্রীর বিশাল সম্ভার মারাত্মক ঝুঁকির সম্মুখীন হয়।
রক্ত সংগ্রহের বিভিন্ন স্থাপনা এবং বণ্টনের নির্দিষ্ট স্থানে এই কোল্ডস্টোরেজ যন্ত্রগুলো স্থাপন করা হয়ে থাকে। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পাঠানোর পূর্বমুহূর্তে রক্তজাত উপাদান এবং সংশ্লিষ্ট জৈব ব্যাংকের নমুনা সংরক্ষণে এগুলোতে শীতলীকরণ যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।
প্রায় একই সময়ে ইউরোপীয় অঞ্চলের বড় বিপণিবিতানগুলোতেও সমান্তরাল আরেকটি ডিজিটাল আক্রমণ চালানো হয়। সাইবার অপরাধীরা তাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের উষ্ণতা একশ বাইশ ডিগ্রি ফারেনহাইটে নির্ধারণ করে বিশাল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী নষ্ট করে ফেলে।
সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় চিকিৎসাকাজের কোনো রক্তের নমুনা নষ্ট হয়নি। তা সত্ত্বেও সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপদসংকুল ও ভীতিপ্রদ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ডিজিটাল অনুপ্রবেশের খবর পাওয়া মাত্রই চিকিৎসাকেন্দ্রের নিজস্ব নজরদারি ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে সজাগ হয়ে ওঠে। তাপের কারণে সংরক্ষিত রক্ত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই সমস্যাগ্রস্ত যন্ত্রপাতিগুলো সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ সরঞ্জামগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। সংগৃহীত নমুনাগুলো দ্রুততার সঙ্গে নিরাপদ বিকল্প স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে যে ফরাসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের आकलन অনুযায়ী বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।
স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ও সতর্কবার্তা প্রণালী এবং দ্রুততম সময়ে নেওয়া সতর্কতামূলক পদক্ষেপের ফলেই রক্তের সরবরাহ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়েছে।
ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলের অসংখ্য বিপণিবিতানের শীতলীকরণ যন্ত্রে অপরাধীদের হানা দেওয়ার ঠিক চৌদ্দ দিন পর এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনা ঘটে। ক্যারফৌরসহ বেশ কয়েকটি নামী খাদ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এই ধ্বংসাত্মক হামলার কবলে পড়ে।
ক্যারফৌর কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে জানায় যে তাদের প্রায় আশিটি বিপণন কেন্দ্র এই হামলার শিকার হয়েছে। আক্রমণকারীরা যন্ত্রের উষ্ণতা বাড়িয়ে একশ বাইশ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উন্নীত করে।
বহু স্থানে যথাসময়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভবপর হয়নি। এর ফলে লক্ষাধিক ইউরো সমমূল্যের খাদ্যপণ্য পচে নষ্ট হয় এবং আবর্জনার মতো ফেলে দিতে হয়।
কিছু নির্দিষ্ট স্থানে অতিরিক্ত উষ্ণতার কারণে ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে। অপরাধীদের এমন ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পুরো অঞ্চলের জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তাকে বিশাল এক সংকটের মুখে ফেলেছে।
শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত শীতলীকরণ ব্যবস্থায় এ ধরনের দূরবর্তী নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের গভীর উৎকণ্ঠায় ফেলে দিয়েছে। হাসপাতালের রক্ত সংরক্ষণাগার থেকে শুরু করে বাজারের শীতল সরবরাহ চক্র আজ সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল ঝুঁকির আওতায় রয়েছে।
ফরাসি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ ও গভীর তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।