
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
শ্রীমঙ্গল উপজেলায় দুটি বালুমহাল কাগজপত্রে ইজারা দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে জানা গেছে। চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকে শুরু করে গত ২ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে প্রশাসন বিভিন্ন এলাকায় মোট ১৮টি অভিযান পরিচালনা করেছে।
উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী চালানো এসব অভিযানে মোট ১ লাখ ২০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। পাশাপাশি অপরাধের সঙ্গে জড়িত পাঁচ ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
অভিযানের সময় জব্দ করা অবৈধ বালু সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিলামে বিক্রি করে মোট ২ লাখ ৭০ হাজার ২৫০ টাকা রাজস্ব হিসেবে আয় হয়েছে। এত কিছুর পরও বিভিন্ন এলাকায় বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত চক্রগুলো অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো অভিযান শেষ হওয়ার পর ওই শক্তিশালী চক্রগুলো সামান্য কিছু আর্থিক জরিমানা দিয়ে আবারও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজ শুরু করে দেয়। এর ফলে সরকার যেমন একদিকে তার সম্ভাব্য রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় কৃষিজমি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
এ ছাড়া বালু তোলার এই অপতৎপরতার কারণে গ্রামীণ রাস্তাঘাট, বিভিন্ন সেতু এবং সাধারণ মানুষের বসতবাড়িগুলোও চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
পরিবেশকর্মী তাপস দাশের মতে, পাহাড়ি ছড়াগুলো থেকে এভাবে অপরিকল্পিত কায়দায় বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে ছড়ার স্বাভাবিক স্রোতধারা এবং এর তলদেশের প্রাকৃতিক গঠনে মারাত্মক পরিবর্তন আসতে পারে।
তিনি আরও সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, এর ফলস্বরূপ নদীর তীরভাঙন তীব্র আকার ধারণ করতে পারে এবং কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়সাধিত হতে পারে। একই সঙ্গে সড়ক ও সেতুর ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ার পাশাপাশি বসতবাড়িগুলোও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই পরিবেশকর্মী।
সূত্র: আজকের পত্রিকা