
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সাম্প্রতিক সময়ে সব ধরনের সমালোচনা পাশ কাটিয়ে তরুণ ব্যাটার তাওহীদ হৃদয় কীভাবে অসাধারণভাবে কামব্যাক করলেন, সেই রহস্যের জট খুলতে সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি তার মুখ থেকেই উত্তর শোনার পরামর্শ দিয়েছেন দলের কোচ ফিল সিমন্স।
মিরপুর টেস্টে উইকেটে টিকে থাকার লড়াইয়ে কিছু অতি আক্রমণাত্মক শট খেললেও সিমন্স মনে করিয়ে দেন যে এটি ছিল হৃদয়ের টেস্ট ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচ। তাই মোটে একটিমাত্র ইনিংসের পারফরম্যান্সের মাপকাঠিতে এই তরুণকে মূল্যায়ন করা বা বিচার করা কোনোভাবেই যৌক্তিক হবে না।
কোচ আরও ব্যাখ্যা করেন যে হৃদয়ের মানসিক পরিপক্বতা আগের চেয়ে অনেক দ্রুত বাড়ছে এবং তার ব্যাট থেকে বেরিয়ে আসা এই দুর্দান্ত ইনিংসটিই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে সামনে এসেছে।
প্রথম টেস্ট ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ব্যক্তিগতভাবে হৃদয়ের সঙ্গে আলাদা করে কোনো ধরনের বিশেষ আলোচনা হয়েছিল কি না—সাংবাদিকদের এমন কৌতূহলী প্রশ্নের জবাবে সিমন্স পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে আলাদাভাবে তার সঙ্গে কোনো কথা হয়নি।
তার পরিবর্তে কোচিং স্টাফরা দলের সকল ব্যাটারকে নিয়েই সামগ্রিকভাবে আলোচনা করেছিলেন, বিশেষ করে মাঠে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে তৈরি হওয়া প্রবল চাপ এবং সেই অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে সফলভাবে কীভাবে বেরিয়ে আসা সম্ভব, তা নিয়ে কথা হয়েছিল।
ম্যাচের একটা পর্যায়ে দলের শেষ দুই ব্যাটার তাইজুল ইসলাম এবং তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি জুটি গড়ে তোলেন হৃদয়, যার মাধ্যমে ইনিংসে দলের খাতায় যোগ হয় মহামূল্যবান ২০২ রান।
একপ্রান্ত আগলে রেখে পাহাড়সম দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি অন্যপ্রান্তে দুই সতীর্থ ব্যাটারকে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ করে দিয়েছেন এবং নিজের সাবলীল ব্যাটিংয়ে দৃষ্টিনন্দন চার-ছক্কার দারুণ সব ঝলকও দেখিয়েছেন।
সব মিলিয়ে তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাট থেকে আসা মহাকাব্যিক ২৪২ রানের এই চোখ জুড়ানো ইনিংসটি কেবল দেশের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের পাতাতেই একটি সম্পূর্ণ নতুন অধ্যায় যুক্ত করেনি।
এর পাশাপাশি চারপাশ থেকে ধেয়ে আসা তীব্র সমালোচনাকে কীভাবে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজের সহজাত সামর্থ্যের শ্রেষ্ঠ প্রমাণ দিতে হয়, তরুণ এই ব্যাটার সেটিও খুব ভালোভাবে বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা