
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
গতকালের ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের নির্ধারিত অনুষ্ঠান চলাকালীন প্রকাশ্যে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্ত্রীর চোখের সামনেই প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন এক পৌর কর্মচারী। এই নৃশংস ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
হামলার শিকার ওই ঘটনার সময় গুরুতর জখম হওয়া মল্লিকাকে পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম বর্তমানে সেখানে চলমান রয়েছে।
এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত শাহনেওয়াজ সানি পৌর শহরের সরদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা জুলহাসের সন্তান। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীর কাছে আগে থেকেই একটি সার্জিক্যাল কাঁচি কেন বা কী উদ্দেশ্যে রাখা ছিল, সে বিষয়টি এখনও রহস্যজনক এবং তা স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে অভিযুক্ত শাহনেওয়াজ সানি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন বা অপ্রকৃতিস্থ প্রকৃতির মানুষ। তবে ঘটনার দিন তিনি কীভাবে এই অতর্কিত হামলা চালালেন, তা নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।
ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে দ্রুত প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয় এবং জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথসহ পুলিশ বাহিনী ও পৌর প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল সরাসরি পরিদর্শন করেন। তারা সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান যে অভিযুক্ত ওই যুবককে ইতিমধ্যে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর হেফাজত থেকেই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ব্যবহৃত সেই কাঁচিটি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান যে এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ব্যক্তির নিজ মেয়ে বাদী হয়ে একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়েরের জন্য বর্তমানে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন। পুলিশ ঘটনার পেছনের মূল রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা