
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ঈশ্বরদী উপজেলায় সম্প্রতি প্রথমবারের মতো জাতীয় ইয়ুথ নিউক্লিয়ার সংলাপের আয়োজন করা হয়েছে। এই বিশেষ আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগი তরুণ ও যুব প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং পারমাণবিক শক্তির নানা দিক নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা চালান।
সভা চলাকালে উপস্থিত তরুণ অংশগ্রহণকারীরা এই খাতের অগ্রগতির পথে বিদ্যমান বেশ কিছু বড় বাধা ও প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করেন। তাঁদের মতে, সাধারণ মানুষের মাঝে পারমাণবিক শক্তি ও এর ব্যবহার সম্পর্কে এখনো পর্যাপ্ত সচেতনতার ব্যাপক অভাব রয়েছে।
আলোচনায় আরও উঠে আসে যে, এই খাতের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত শিক্ষা অর্জনের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত এবং হাতে-কলমে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের যথেষ্ট সুযোগ নেই। এছাড়া পর্যাপ্ত গবেষণা সুবিধার ঘাটতি এবং ক্যারিয়ার গড়ার জন্য উপযুক্ত ইন্টার্নশিপের স্বল্পতার বিষয়টিও তারা তুলে ধরেন।
তরুণ প্রজন্ম বিকিরণ নিয়ে মানুষের মনে থাকা নানা ভয়, পারমাণবিক নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি এবং এর সামগ্রিক পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা ও উদ্বেগগুলো নিরসনের ওপর জোরালো গুরুত্ব আরোপ করেন। এসব বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে সঠিক তথ্য প্রচারের কোনো বিকল্প নেই বলে তাঁরা অভিমত প্রকাশ করেন।
চিহ্নিত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে অংশগ্রহণকারী তরুণেরা বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও কার্যকরী সুপারিশমালা পেশ করেন। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষায়িত কোর্স চালু করা, শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত বৃত্তির ব্যবস্থা করা এবং গবেষণার কাজে আর্থিক অনুদান প্রদান।
পাশাপাশি, ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ইন্টার্নশিপের পরিধি বাড়ানো এবং শিল্প খাতের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তাব রাখা হয়। এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে যুবসমাজ এই খাতে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ হবে বলে তারা মনে করেন।
আলোচনার শেষ পর্যায়ে দেশের পারমাণবিক খাতের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে একটি সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব বহুগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।
সূত্র: আজকের পত্রিকা