
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের খাতা পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করার প্রক্রিয়া ও সময়সীমা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকাশিত ফলাফলে নিজেদের কাঙ্ক্ষিত গ্রেড বা নম্বর না পেয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী এই চ্যালেঞ্জ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য ফরম পূরণ করেছেন। প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নিজেদের প্রাপ্ত ফলাফলের ওপর আস্থা রাখতে না পেরে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন মোট ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ জন শিক্ষার্থী।
এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী কেবল আবেদন করাই ক্ষান্ত হননি, তাঁরা বোর্ডের কাছে মোট ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৭টি উত্তরপত্র বা নির্দিষ্ট বিষয় পুনরায় যাচাই করে দেখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। বিগত গত ৩০ অক্টোবর চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল। প্রকাশিত সেই ফলাফলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ বছর সারাদেশে সর্বমোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে সার্বিকভাবে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন পরীক্ষার্থী। অন্যদিকে, বিভিন্ন বিষয়ে নির্ধারিত নম্বর অর্জন করতে না পেরে অকৃতকার্য হয়েছেন প্রায় ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী। সব মিলিয়ে এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে। শিক্ষাবোর্ডের বিগত বছরের রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এবারের এই পাসের হার গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
ফলাফলের অন্যান্য সূচকের দিকে তাকালে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এবছর সর্বোচ্চ ফলাফল বা জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ২৯ হাজার ১৩ জন শিক্ষার্থী কম জিপিএ-৫ লাভ করেছেন। চলতি বছরের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, সারা দেশ মিলিয়ে এবার মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পেরেছেন। যেখানে এর আগের বছর অর্থাৎ গতবার ঠিক এই পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন মোট ৭২ হাজার ১৭৬ জন শিক্ষার্থী।
সূত্র: আজকের পত্রিকা