
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মডেল ও অভিনয়শিল্পী সামিরা খান মাহি এবার মিস ইউনিভার্সের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের পতাকা বহন করতে চলেছেন। এর আগে শিরিন শিলা, আনিকা আলম ও তানজিয়া জামান মিথিলা এই খ্যাতি অর্জন করলেও, এবার সেই জায়গায় নাম লেখালেন মাহি। আগামী ২৪ নভেম্বর ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ পুয়ের্তো রিকোতে মিস ইউনিভার্সের ৭৫তম আসর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিশ্বমঞ্চের এই জাঁকজমকপূর্ণ লড়াইয়ে পৃথিবীর নানা প্রান্তের সুন্দরীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন এই বাংলাদেশি তারকা।
গত শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ের পাশে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা বা আইসিসিবি মিলনায়তনে জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৫-এর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এই আসরেই সামিরা খান মাহিকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। পরবর্তীতে আয়োজকদের আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি গণমাধ্যম ও দেশবাসীকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এমন একটি আন্তর্জাতিক গৌরবময় মঞ্চে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করার সুযোগ পেয়ে নিজের আনন্দ ও রোমাঞ্চের কথা প্রকাশ করেছেন সামিরা। প্রথম আলোর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি জানান যে তাঁর অনুভূতি অত্যন্ত চমৎকার, কেননা জীবনে এই প্রথম তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের দেশকে তুলে ধরার সুবর্ণ সুযোগ পেলেন। দেশের কৃষ্টি-কালচার ও সাধারণ মানুষকে বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করাই তাঁর মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অভিনয়জগতে দেশের দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক ভালোবাসা ও সমর্থন পেলেও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজ করার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা তাঁর ছিল না। এটি তাঁর জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক অভিযাত্রা উল্লেখ করে তিনি জানান যে তিনি যেমন ভীষণ আনন্দিত, তেমনই কিছুটা স্নায়ুচাপে ভুগছেন। অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন ছিল বলে জানান তিনি।
মাত্র পাঁচ দিন আগে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান সামিরা, যা তাঁর জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। একটি আস্ত দেশকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করা যে অত্যন্ত কঠিন একটি দায়িত্ব, সে কথা অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি। এত কম সময়ে বড় ধরনের মানসিক ও অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করার বিষয়টি বেশ জটিল হলেও তিনি নিজের সেরাটা দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
প্রস্তুতির এই স্বল্প সময়েও তিনি বড় ধরনের একটি মানসিক ও বাস্তবিক সহায়তা পাচ্ছেন মিস ইউনিভার্সের বিগত আসরের অভিজ্ঞ প্রতিযোগী তানজিয়া জামান মিথিলার কাছ থেকে। সামিরার কাছে মিথিলা কেবল একজন সহযোগিতাকারীই নন, বরং পরম শ্রদ্ধেয় বড় বোন ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মতো। পোশাক নির্বাচন, সাজসজ্জার ধরণ এবং সামগ্রিক প্রস্তুতিতে মিথিলা তাকে নানাভাবে দিকনির্দেশনা ও সাহায্য করে যাচ্ছেন।
সামিরা কৃতজ্ঞতার সুরে উল্লেখ করেন যে তাঁর এই যাত্রায় সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তাঁর অতি প্রিয় বড় বোন ও বন্ধু মিথিলার সান্নিধ্য। গত পাঁচ দিন ধরে মিথিলা সার্বক্ষণিক তাঁর পাশে থেকে তাঁর দেখভাল করছেন এবং তাঁর স্টাইলিং ও কস্টিউমের দেখভাল করছেন। এমন একজন মেন্টর ও বন্ধুকে পাশে পেয়ে তিনি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করছেন বলে জানান।
মিথিলা যেহেতু এর আগে নিজেই মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন, তাই আন্তর্জাতিক মঞ্চের বহু কলাকৌশল ও অভিজ্ঞতা তাঁর অর্জিত রয়েছে। সামিরার নিজের যেহেতু এই বড় আয়োজনে যাওয়ার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই, তাই মিথিলার কাছ থেকে শেখা বিষয়গুলো তাঁর সারা জীবনের অভিজ্ঞতা হিসেবে কাজে লাগবে। সব মিলিয়ে মিথিলা আপু তাঁর এই যাত্রায় সবচেয়ে বড় শক্তির উৎস বা সাপোর্ট সিস্টেম হিসেবে কাজ করছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য যে, এর আগে ২০১৯ সালের আসরে শিরিন শিলা, ২০২৪ সালের আসরে আনিকা আলম এবং ২০২৫ সালের আসরে তানজিয়া জামান মিথিলা মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন। তাঁদের সেই ধারাবাহিকতা ও ঐতিহ্যের পথ ধরেই এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের হয়ে লড়াই করতে যাচ্ছেন জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।