
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বা সিএএ কাঠামোর অধীনে বৈধ আবেদনকারীদের সকলকে নাগরিকত্ব প্রদানের কার্যক্রম সমাপ্ত করা হবে। গত শনিবার নদীয়া অঞ্চলে একটি কালীপূজা মণ্ডপের শুভ উদ্বোধনে অংশ নিয়ে এমন ঘোষণা দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তৃণমূল কংগ্রেসের বিগত প্রশাসন সিএএ রূপায়ণে সহায়তা না করায় প্রায় আড়াই লক্ষাধিক আবেদনপত্র এখনও নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলে তাঁর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
সীমান্তবর্তী নদীয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনা অঞ্চলে অবৈধভাবে প্রবেশকারী বাংলাদেশ থেকে আগত বহু মানুষের বসতি রয়েছে বলে ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়ে থাকে।
শুভেন্দু অধিকারী জানান যে কেবল এই দুটি নির্দিষ্ট জেলাতেই প্রায় আড়াই লক্ষ আবেদনপত্র বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। যদিও কোনো বৈধ আবেদনকারী নাগরিকত্ব প্রাপ্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রমাণপত্র বা সনদ পৌঁছে দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
এই উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তাঁর সরকার ইতিপূর্বেই যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে বলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা শাসকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মহকুমা শাসকেরা তৃণমূল পর্যায়ে সমস্ত আবেদনপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বাছাই করবেন এবং এই সংক্রান্ত গণশুনানি প্রক্রিয়া সরাসরি তদারকি করবেন।
উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ বিলটি পাস হয়েছিল।
উক্ত আইনে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের মুখে পড়ে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পূর্বে ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে নাগরিকত্ব প্রদানের বিধান রাখা হলেও মুসলমানদের এই সুবিধার আওতাভুক্ত করা হয়নি।
আইনটি পাস হওয়ার পরপরই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে তীব্র আন্দোলন, সড়ক ও রেলপথ অবরোধ এবং অগ্নিসংযোগের নানা ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল।
এরপর ২০২৪ সালের ৬ মার্চ কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে এই আইনের বিধিমালা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে তা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়।
বিশেষ করে নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোটারদের কাছে নাগরিকত্বের এই বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
এদিকে ২০২৬ সালের জুন মাসে বর্তমান প্রশাসন সিএএ বিরোধী আন্দোলন চলাকালীন সময়ে সংঘটিত হিংসাত্মক ঘটনা ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের বিষয়গুলো পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
এই ঘটনার তদন্তের কাজের সুবিধার্থে পুলিশের তরফ থেকে একটি বিশেষ তদন্ত সেল বা দল গঠন করা হয়েছে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।