
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
চলতি বছরের জুন মাসে মার্কিন কংগ্রেসের একটি প্রকাশ্য শুনানিতে ক্যাস্ট্রোর করা প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশই বিশ্বাস করে যে তেল আবিবের পরমাণু অস্ত্রাগার রয়েছে, অথচ তারা কখনোই বিষয়টি জনসমক্ষে স্বীকার করেনি। মার্কিন নীতিমালার অংশ হিসেবে বিভিন্ন কৌশলগত কারণে ওয়াশিংটনও এই অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো আলোচনা এড়িয়ে চলে।
বিশ্লেষক মহলের অভিমত হলো, মার্কিন প্রশাসনের এই ধোঁয়াশা ও গোপনীয়তার আবরণ যদি একসময়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অপসারিত হয়, তবে তার পরিণতি হতে পারে অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ও ধ্বংসাত্মক। ওয়াশিংটন যদি আনুষ্ঠানিকভাবে তেল আবিবের পরমাণু অস্ত্র থাকার বিষয়টি মেনে নেয়, তবে রিয়াদসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলোও পরমাণু অস্ত্র অর্জনের প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হবে।
অন্যদিকে, মার্কিন আইন অনুযায়ী যেসমস্ত দেশ পরমাণু অণুপ্রসার চুক্তি বা এনপিটিতে স্বাক্ষর না করেই গোপনে পারমাণবিক বোমা বা অস্ত্র তৈরি করে, তাদের যেকোনো ধরনের মার্কিন সামরিক সহায়তা কিংবা অস্ত্র সরবরাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এর ফলে মার্কিন অভ্যন্তরীণ আইনি কাঠামোর ভেতরে এক বিশাল জটিলতা ও সংকটের সৃষ্টি হবে, যা দেশটিকে চরম বিপাকে ফেলতে পারে।
কারণ হিসেবে উল্লেখ করা যায় যে, তেল আবিব বিগত দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত গোপনে তাদের পরমাণু অস্ত্র প্রস্তুতের কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে এবং একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের তরফ থেকে নিয়মিত সামরিক সাহায্যও লাভ করে আসছে। পরিশেষে বলা যায়, গত ছয় দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরমাণু অস্ত্র ইস্যুতে যে কৌশলগত অস্পষ্টতা ও রাখঢাক বজায় রেখেছিল, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পালাবদলে সেটি এখন অবধারিতভাবে এক চূড়ান্ত সত্যের মুখোমুখি এসে উপনীত হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা