
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিএসটিআইয়ের একটি প্রকল্পে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। জানা গেছে, পাঁচ জেলার এই কার্যালয় সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণে দুই কোটি কুড়ি লক্ষ সাত হাজার দুইশত টাকা ক্রয়ে ব্যত্যয় ঘটে। এছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে দুই লক্ষ উনসত্তর হাজার একষট্টি টাকা জরিমানা হিসেবে আদায় করা হয়নি। একই সঙ্গে প্রধান নির্বাহীর অবসরকালীন সুবিধার ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অর্থ নেওয়ার তথ্য তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ড. ইফতেখারুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, কর্মীদের বিধি বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত ভাতা গ্রহণের বিষয়টি সত্য হলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তার মতে, এমন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ক্ষমতার অপব্যবহারের নজির স্থাপন করছে। যারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক অতিরিক্ত অর্থ বাধ্যতামূলকভাবে ফেরত নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে নকল মোহর ব্যবহার করে মানহীন পণ্য বিক্রির তথ্য প্রকাশ পায়। তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট অর্থবছরে বড় সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা করা হলেও অনেক পণ্য নজরদারির বাইরে থেকে যায়। এই পরিস্থিতি এড়াতে লাইসেন্সের পরিধি বৃদ্ধি, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো, বিশেষ অভিযান পরিচালনা এবং বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন।
বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতার কারণে জনবল ও অর্থের অপচয় হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া, সম্মিলিতভাবে কাজ করা এবং আধুনিক পরীক্ষাগার তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উদ্যোক্তাদের ভোগান্তি কমাতে ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে দায়িত্ব প্রদান এবং অভ্যন্তরীণ নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সংস্থার জনবল কাঠামোর বড় একটি অংশ উচ্চ পদমর্যাদার হওয়ায় কাঠামো পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম জোরদার এবং পরীক্ষাগারগুলোর মান বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। আর্থিক স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই সংস্কার সম্পন্ন করা সম্ভব বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এসব বিষয়ে শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তার সম্যক ধারণা নেই এবং খোঁজ নিয়ে তা জানাতে পারবেন।
অন্যদিকে অতিরিক্ত ভাতা গ্রহণের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান কাজী ইমদাদুল হক জানান, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ নতুন নয়। এর পেছনে একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে এবং যেভাবে বিষয়টি প্রচার করা হচ্ছে, বাস্তবতা তার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা