
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে রংপুরের বেশ কয়েকটি সরকারি কোয়ার্টারে বরাদ্দ পাওয়া কর্মকর্তাদের বদলে অন্যদের বসবাস করার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। নির্দিষ্ট ওই দিন দুপুরে সংশ্লিষ্ট চারতলা কোয়ার্টারে গিয়ে মোট আটটি ফ্ল্যাটের মধ্যে চারটিতেই প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপ্তদের পরিবর্তে ভাড়াটেদের অবস্থানের সত্যতা পাওয়া যায়।
তদন্তে দেখা গেছে, ওই কোয়ার্টারের পাশের তিনতলা ভবনের ছয়টি ফ্ল্যাটের মধ্যে একটিতে ভাড়াটে এবং দুটি ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে বসবাসকারী ব্যক্তিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ভবনের পাশেই অবস্থিত আরও একটি কোয়ার্টারের একটি ফ্ল্যাটেও বহিরাগত ভাড়াটেরা বসবাস করে আসছেন।
চারতলা কোয়ার্টারটির তৃতীয় তলার একটি নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট আনুষ্ঠানিকভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা ডাকঘরের পোস্টম্যান শরিফুল ইসলামের নামে। অথচ নিয়মবহির্ভূতভাবে সেই ফ্ল্যাটে বর্তমানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন স্কুলশিক্ষিকা আফরোজা খাতুন বেবি।
একই ভবনের তৃতীয় তলার অপর একটি ফ্ল্যাটের বরাদ্দ রয়েছে রংপুর প্রধান ডাকঘরের অপারেটর তৌহিদুল ইসলামের নামে। তবে সেখানে বাস্তবে বসবাস করছেন লাভলী বেগম নামের এক নারী।
নিজের অবস্থান সম্পর্কে লাভলী বেগম গণমাধ্যমকে জানান যে তাঁর স্বামী নেই এবং ফ্ল্যাটটি তৌহিদুলের নামে বরাদ্দ থাকলেও তিনি নিজে সেখানে থাকেন। তিনি আরও জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যে ভাড়ার পরিমাণ নির্ধারিত রয়েছে, সেটি তিনি তৌহিদুল ইসলামকেই পরিশোধ করে থাকেন।
এদিকে এই বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কলটি রিসিভ করে ব্যস্ততার কথা বলে তা কেটে দেন।
অন্যদিকে, একই কোয়ার্টার ভবনের চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাট বরাদ্দ নেওয়া হয়েছিল রংপুর প্রধান ডাকঘরের প্যাকার কাম মেইল ক্যারিয়ার লুৎফর হাবিব রানার নামে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি নিজের নামে বরাদ্দ পাওয়া এই সরকারি ফ্ল্যাটটি জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তির কাছে ভাড়া দিয়ে রেখেছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা