
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
জনপ্রিয় তারকা তাহসান খানের সাথে সম্প্রতি একটি আনন্দদায়ক ও মজার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশিষ্ট গণমাধ্যমকর্মী কবির বকুল। বাংলাদেশের অসংখ্য তরুণ-তরুণীর আবেগ ও ভালোবাসার সাথে জড়িয়ে থাকা এই শিল্পী তার গান, অভিনয় এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বিভিন্ন রসাত্মক প্রশ্নের মুখে।
সাক্ষাৎকারের শুরুতে ২০০৬ সালে প্রকাশিত তার বহুল পরিচিত ‘আলো আলো’ গানটি নিয়ে কথা ওঠে। গানটি প্রকাশের পর দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বেড়ে গেছে কি না, এমন এক মজার প্রশ্নের জবাবে তাহসান স্পষ্ট জানান যে, লোডশেডিংয়ের সাথে তার গানের কোনো সম্পর্ক নেই এবং এটি সম্পূর্ণ একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব মাত্র।
তার আরেকটি জনপ্রিয় সৃষ্টি ‘ঈর্ষা’ গানের প্রসঙ্গ টেনে আয়নায় নিজের চিরসবুজ রূপ দেখে নিজের প্রতি কোনো হিংসা হয় কি না জানতে চাওয়া হয়। এর উত্তরে তিনি রসিকতা করে বলেন যে, এমন মানসিক ব্যাধি হলে তাকে অবশ্যই কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হতো, যদিও এখন পর্যন্ত তার মধ্যে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
তরুণ প্রজন্মের ব্রেকআপের পর তার গান শুনে কেঁদে বালিশ ভেজানোর বিষয়টি নিয়েও হাসাহাসি হয়। টিস্যু কোম্পানি থেকে কোনো স্পনসরশিপের লভ্যাংশ পান কি না—এমন কৌতূহলী প্রশ্নের জবাবে তাহসান মজা করে জানান যে, এটি একটি গোপন করপোরেট বিষয় হলেও সত্যি বলতে তিনি টিস্যু কোম্পানির চেয়ে চাঁদের কাছ থেকে অনেক বেশি স্পনসর পেয়ে থাকেন।
নাটকে সবসময় চকলেট বয় ও পিয়ানো বাদক ভদ্রলোকের চরিত্রে অভিনয় করা নিয়ে তিনি জানান, তার মনে লুঙ্গি পরে গামছা বেঁধে কড়া খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করার তীব্র ইচ্ছা থাকলেও পরিচালকদের মতে তাকে নাকি ফরমাল ট্রাউজার পরা বা রাগ করলেও রোমান্টিক মনে হয়, যে কারণে পিয়ানো আর ইস্তিরি করা শার্টই তার নিত্যদিনের সঙ্গী।
বাসার রান্নাঘরে তরকারিতে লবণ বেশি হওয়ার মতো সাধারণ ঘটনায় তিনি মাইক্রোফোন হাতে উপস্থাপকের মতো গম্ভীর কণ্ঠে বিরতির ঘোষণা দেন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি মজার ছলে স্বীকার করেন যে, যেমন সবাই তাকে প্রশ্ন করে বিরক্ত করে, তিনিও সবাইকে জোর করে বিরতিতে পাঠিয়ে দেন।
তার বয়সহীন থাকার রহস্য এবং জাস্টিন বিবার বা বিটিএস ব্যান্ডের চেয়ে আপু ভক্ত বেশি হওয়ার বিষয়ে তিনি এটিকে ডাহা মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন। তিনি দাবি করেন যে, গান ও অভিনয় থেকে কয়েক বছর বিরতি নেওয়ায় তার ভক্তসংখ্যা কমে মাত্র ১৫০ জনে ঠেকেছে এবং এখন সাদা চুল-দাড়ি নিয়ে রিকশায় ঘুরে বেড়ানো তিনি বেশ উপভোগ করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো, বই লেখা, গান ও অভিনয়ের পর এবার নাসা থেকে মঙ্গলে যাওয়ার প্রস্তাব পেলে সেখানে গিয়ে নতুন অ্যালবাম তৈরি করবেন কি না—এমন সুদূর প্রসারী প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন যে, ভারত বা পাকিস্তানে কোনো কনসার্টই করা হলো না আর তিনি মঙ্গলগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন করছেন। আগে হিন্দি ও উর্দু ভাষায় কিছু হিট গান বানানোর পরই কেবল মঙ্গল গ্রহ নিয়ে ভাববেন।
সবশেষে ‘রস+আলো’র পাঠকদের জন্য কোনো হাসির কথা শোনানোর অনুরোধ করা হলে তিনি বলেন যে, তার করুণ গানগুলো নিয়ে যারা মজা নিচ্ছেন, তাদের বোঝা উচিত কাঁদতে পারাটা আসলে একটি বড় আশীর্বাদ। মানুষের অনুভূতি যখন পুরোপুরি ভোঁতা হয়ে যায়, কেবল তখনই কাঁদতে পারার আসল প্রশান্তি উপলব্ধি করা যায়। আর হাসতে চাইলে স্ট্যান্ডআপ কমেডি শো দেখার পাশাপাশি ‘রস+আলো’ পড়া বাদ দিয়ে রসকদম্ব মিষ্টি খাওয়ারও পরম পরামর্শ দিয়েছেন এই শিল্পী।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।