
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন যে, বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শক্তি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার হীন উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করেছিল এবং নিজেদের পেটোয়া বাহিনীকে মাঠে নামিয়েছিল। মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, ওই মাঠে নামা ব্যক্তিরা আদতে কোনো সাধারণ পোশাক শ্রমিক ছিলেন না; যদিও তাদের মধ্যে কিছু শ্রমিক সাময়িকভাবে বিভ্রান্তির শিকার হয়েছিলেন, কিন্তু তারা মাত্র দুই দিনের মধ্যেই নিজেদের কর্মস্থলে ও কারখানায় ফিরে গেছেন।
নাশকতা সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে তিনি জানান, সখীপুর এলাকা থেকেও পতিত স্বৈরাচারের একশ থেকে দুইশ নেতাকর্মীকে ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালানোর জন্য পাঠানো হয়েছিল এবং বর্তমানে তাদের সবার নামযুক্ত একটি তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই দেশ সম্পূর্ণভাবে এদেশের সাধারণ জনগণের, তাই এখানে কোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ন্যূনতম সুযোগ দেওয়া হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
বিরোধী দলগুলোর কঠোর সমালোচনা করে মন্ত্রী আহমেদ আযম খান আরও বলেন যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত ও ভেঙে পড়া দেশকে নতুনভাবে ও শূন্য থেকে গড়ে তোলার এক বিরাট কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন, ঠিক সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেও দেশের বিরোধী দলগুলো নানা ধরনের বিষোদ্গার ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
বিরোধী দলগুলোর অতিমাত্রিক ক্ষমতার লোভের কথা তুলে ধরে তিনি মন্তব্য করেন যে, তারা এখনই যেকোনো উপায়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করার জন্য চরম মাত্রায় অস্থির হয়ে উঠেছে এবং প্রায়শই নানা ধরনের লংমার্চের কর্মসূচি পালন করে আসছে।
দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও ঘাটতির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন যে, যখন সারা দেশে তেলের অভাব পরিলক্ষিত হয়, তখন সেই সংকটময় মুহূর্তেও বিরোধী দলগুলো কীভাবে হাজার হাজার ব্যক্তিগত ও অন্যান্য গাড়ি নিয়ে লংমার্চ করে বেড়ায় এবং এই ধরনের আচরণকে কি আদৌ কোনো প্রকৃত দেশপ্রেম বলা চলে কিনা।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন যে, তারা অনবরত বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি এবং কড়া আলটিমেটাম দিয়ে যাচ্ছে, যা কোনোভাবেই একটি সুস্থ ও দেশপ্রেমিক রাজনীতির অংশ হতে পারে না।
সূত্র: আজকের পত্রিকা