
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
দ্বীপ জেলা ভোলার সরকারি হাসপাতালে অতি দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র তথা আইসিইউ এবং কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট বা সিসিইউ চালুর দাবিতে একটি অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় চিকিৎসা বঞ্চিত নয়ন খানের পাশে সংহতি জানাতে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার বহু মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসে জড়ো হন।
শিক্ষার্থী লামিয়া এই কর্মসূচি থেকে নিজের মত প্রকাশ করে জানান যে, তারা সকলে নয়ন খানের এই দাবির সাথে সংহতি জানাতে যোগ দিয়েছেন। তার মতে, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই চিকিৎসালয়ে জীবন রক্ষাকারী আইসিইউ এবং সিসিইউ ইউনিট চালু করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি, কারণ এটি কোনো একক ব্যক্তির দাবি নয় বরং পুরো অঞ্চলের সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবি।
এই প্রতিবাদী ও সংহতি সমাবেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির সোপান।
এছাড়াও সেখানে ভোলা সদর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। এই আয়োজনে আরও অংশ নেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মাসুদ এবং সংগঠনটির সদস্যসচিব মুনতাসীর আলম চৌধুরী রবিনসহ স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে বিএনপি নেতা হুমায়ূন কবির সোপান উল্লেখ করেন যে, ভোলা সদর হাসপাতালে আইসিইউ ও সিসিইউ স্থাপন করা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। তিনি আরও জানান যে এই ন্যায্য দাবির প্রতি তাদের দল ও পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থন ও একাত্মতা ঘোষণা করা হচ্ছে।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে এই রাজনীতিবিদ আবেগঘন কণ্ঠে জানান যে, প্রায় ছয় বছর পূর্বে প্রয়োজনীয় আইসিইউ সুবিধার অভাবে তিনি তার নিজ মাকে চিরতরে হারিয়েছেন। যদি সেই সময়ে এই সদর হাসপাতালে আইসিইউ সেবা বিদ্যমান থাকত, তবে তার রোগিণী মাকে জরুরি ভিত্তিতে অনেক দূরে ঢাকায় স্থানান্তরের প্রয়োজন হতো না। হয়তো তখন তাকে রাজধানীর পথ না দেখিয়ে এই ভোলা হাসপাতালেই যথাযথ চিকিৎসা সেবা প্রদান করা সম্ভব হতো এবং তার মায়ের প্রাণ রক্ষা পেত।
সূত্র: আজকের পত্রিকা