
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মালয়েশিয়াগামী নয়জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের লম্বরীঘাট এলাকায় এই সফল অভিযান পরিচালিত হয়।
অবৈধ উপায়ে সমুদ্রপথে বিদেশ যাত্রার প্রস্তুতি চলার সময় এই অভিযান চালানো হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে মানব পাচার চক্রের অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য দ্রুত একটি নৌকায় চড়ে সাগরের দিকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
উদ্ধার হওয়া মোট নয়জন ব্যক্তির পরিচয় ইতিমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সী আমির হোসেন, উনিশ বছর বয়সী মো. জীবন, ১৭ বছর বয়সী কিশোরী জান্নাত আরা এবং ২৯ বছর বয়সী আবদুল খালেক।
এই তালিকায় আরও রয়েছেন ১৬ বছরের কিশোর ফয়সল করিম, ২১ বছর বয়সী আরিফুল ইসলাম, ২২ বছর বয়সী নুরুল ইসলাম, ২৩ বছর বয়সী আহমদ নবী এবং ১৮ বছর বয়সী তরুণ জাহিদ আলম।
সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই দলটি স্থানীয় শরণার্থী ক্যাম্পের কিছু বাসিন্দা এবং জেলার অন্যান্য এলাকার সাধারণ মানুষ। মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে পাঠানোর উদ্দেশ্যে তাঁদের নির্দিষ্ট সমুদ্রঘাটে জড়ো করা হয়েছিল।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত নৌঘাটে অভিযান পরিচালনা করে সামরিক বাহিনী। পাচারকারীরা এ সময় জলপথ ব্যবহার করে পালিয়ে গেলেও ভুক্তভোগীদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
টেকনাফ অঞ্চলের দ্বিতীয় ব্যাটালিয়নের শীর্ষ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী গণমাধ্যমের কাছে এই উদ্ধার অভিযان এবং এর পেছনের প্রেক্ষাপট নিশ্চিত করেছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তাঁদের পুরুষ সদস্যদের আকর্ষণীয় বেতনের চাকুরির লোভ দেখানো হয়েছিল।
অন্যদিকে চক্রটি নারী ভুক্তভোগীদের ক্ষেত্রে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। তাঁদের মালয়েশিয়ায় বিত্তশালী পাত্রের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করানোর লোভনীয় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। পাশাপাশি পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।