
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
গত ৩ নভেম্বর রবিবার সন্ধ্যায় খুলনা মহানগরীর শামসুর রহমান রোডে অবস্থিত আব্দুল্লাহ প্যাথলজি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আকস্মিক হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। শুরুর দিকে ক্যানসারের নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্র করে এই হামলার সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তীতে আসল ঘটনা হিসেবে চাঁদার বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে। প্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর চালানোর সময় উপস্থিত সন্ত্রাসীরা পরিচালনা কর্তৃপক্ষের কাছে নগদ ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বসেন। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, এই গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পরেও এ পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
এই ঘটনার ঠিক চার দিন পর গত শনিবার দুপুরে নগরীর খানজাহান আলী রোড এলাকায় অবস্থিত অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে দ্বিতীয় দফায় আরেকটি হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানিটির পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করা হয়েছে যে, হামলাকারীরা সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে। সম্প্রতি জামিনে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া একটি চিহ্নিত সন্ত্রাসী চক্রের এক সদস্য এই প্রতিষ্ঠানে এসে সরাসরি ব্যবস্থাপককে বিভিন্ন ধরনের প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করেছেন বলে ভুক্তভোগী কর্তৃপক্ষের দাবি।
খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে এই ধরনের অসংখ্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। কিন্তু চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হওয়ায় সেখানকার আতঙ্কিত কর্তৃপক্ষ নিজেদের সামাজিক মানসম্মান রক্ষা এবং নিজ প্রাণের ভয়ে কোনো প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। মুখ বুজে নীরবেই তারা ওই সন্ত্রাসীগোষ্ঠীকে নিয়মিত চাঁদা পরিশোধ করে যাচ্ছেন বলে জোরালো অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোড এলাকার চয়নিকা ফার্মেসির ব্যবস্থাপকও দুর্বৃত্তদের হাত থেকে রেহাই পাননি। তাকে মোবাইল ফোনে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়। এমন ভয়াবহ জীবননাশের হুমকির মুখে পড়ে ভয়ে ওই ব্যবস্থাপক অবিলম্বে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এই উদ্ভূত নিরাপত্তা সংকটের পর থেকে ফার্মেসিটির মালিক প্রতিষ্ঠানটি অনির্দিষ্টকালের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
সার ̈ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বললে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন জানান যে, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে সংঘটিত এসব ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে সন্ধানীর ঘটনায় পুলিশ স্বয়ং বাদী হয়ে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করেছে। সেই মামলায় ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।
সূত্র: আজকের পত্রিকা