
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশনাল’-এর সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ইউক্রেন এবং রাশিয়ার চলমান সংঘাতের কারণে কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরে বাণিজ্যিক জলযান চলাচল অত্যন্ত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অ্যামব্রে অ্যানালিটিকসের পরিসংখ্যানে প্রকাশ পেয়েছে, চলতি বছরের মে মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত সময়ে দুই দেশের সংঘাতে মোট ৩১৭টি বাণিজ্যিক এবং অন্যান্য জলযানে আক্রমণ চালানো হয়েছে। অথচ এর ঠিক আগের ছয় মাসের পর্যালোচনায় দেখা গিয়েছিল, এই ধরনের হামলার সংখ্যা ছিল মাত্র ৭৪টি। অর্থাৎ সামগ্রিক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই অঞ্চলে জলযানে আক্রমণের ঘটনা চার গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বা ডব্লিউএফপি-র খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি বিশ্লেষণ বিভাগের পরিচালক জ্যঁ-মার্তিন বাউয়ার সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন যে, গোটা বিশ্বের মোট গম বাণিজ্যের প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ অংশই রাশিয়া ও ইউক্রেনের সরবরাহের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে বর্তমানে যে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে, তার সরাসরি প্রভাবে ইউক্রেনের সাধারণ কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যগুলো ঠিকমতো বিক্রি করতে পারছেন না। এর ফলে তাঁদের নিজস্ব গুদামঘরগুলোতে অতিরিক্ত শস্যের মজুত অস্বাভাবিকভাবে জমে যাচ্ছে এবং এর ধাক্কায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ফসলের দামও বেশ খানিকটা কমে গেছে।
জ্যঁ-মার্তিন বাউয়ার আরও ব্যাখ্যা করে বলেন যে, কৃষ্ণসাগর এবং হরমুজ প্রণালি মূলত একই বৈশ্বিক খাদ্যব্যবস্থার দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করে থাকে। এর মধ্যে প্রথমটি অর্থাৎ কৃষ্ণসাগর হলো আন্তর্জাতিক বাজারে শস্য রপ্তানি করার ক্ষেত্রে একটি অপরিহার্য রুট, আর দ্বিতীয়টি অর্থাৎ হরমুজ প্রণালি হলো জ্বালানি তেল ও কৃষি সার সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত পথ। এই দুটি প্রধান ও সংবেদনশীল রুটের যেকোনো একটিতে যদি কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়, তবে তার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্য উৎপাদন খরচ, পরিবহন ব্যয় এবং মানুষের কেনার সামর্থ্য—সবকিছুই বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
এদিকে ইউক্রেনের কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্যে জানানো হয়েছে যে, আগামী ২০২৬ সালের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সময়সীমার মধ্যে দেশটির মোট শস্য রপ্তানি পরিমাণ আগের একই মৌসুমের তুলনায় ঠিক ২৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো মৌসুমজুড়ে দেশটি বিদেশ থেকে ৩ কোটি ৭৫ লাখ টন চাল, শস্য এবং বিভিন্ন ধরনের ডালজাতীয় কৃষিপণ্য সফলভাবে রপ্তানি করেছিল। আর এই বিশাল পরিমাণের রপ্তানিকৃত খাদ্যপণ্যের মধ্য থেকে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল এবং উত্তর আফ্রিকা এলাকা ছিল ইউক্রেনের শস্যের অন্যতম প্রধান এবং লাভজনক বাজার।
সূত্র: আজকের পত্রিকা