
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
প্রবাস জীবন শেষ করে দেশে ফেরার পর থেকেই পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতার আবর্তে আটকে পড়েন হাশেম। নিকটাত্মীয়দের ভাষ্যমতে, এই গৃহবিবাদের ফলে তাঁর ওপর লাগাতার শারীরিক এবং মানসিক নিপীড়ন চালাতে শুরু করেছিলেন তাঁর স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। বিগত মাসেই তাঁকে বেদম প্রহার করা হয়েছিল, যার ফলে তাঁর মাথার খুলি ফেটে রক্তপাত ঘটেছিল বলে স্বজনেরা দাবি করেছেন।
গত বুধবার দিবাগত রাতে তাঁর শ্বশুরবাড়ির প্রাঙ্গণে স্ত্রী সহ বেশ কতিপয় ব্যক্তি একত্রিত হয়ে তাঁর ওপর চড়াও হন এবং বেধড়ক পেটান। এই বর্বরোচিত শারীরিক নিগ্রহের ফলে তাঁর ডান পায়ের হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের শোকার্ত পরিবারের সদস্যরা।
ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস. এম. দিদারুল ইসলাম সিকদার গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার প্রাথমিক অনুসন্ধান চালিয়ে অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ার পর প্রথমে নিহত ব্যক্তির স্ত্রী আয়শা আক্তারকে আটক করে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হয়।
ওই নারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং তাঁর প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বিশেষ দল শনিবার দিবাগত রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে।
এই ধারাবাহিক অভিযানে মামলার এজাহারে তালিকাভুক্ত পলাতক অন্য দুই অভিযুক্ত নাজিম উদ্দিন এবং ফোরকান আহমদকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
আটকের পর এই দুই অভিযুক্তকে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
পাশাপাশি, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরক্ষভাবে জড়িত বাকি আসামিদের খুঁজে বের করতে এবং আইনের আওতায় আনতে পুলিশের জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা