
যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব এখনো বিবেচনা করছে ইরান। দুই পক্ষের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার খবর সামনে আসায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে BBC News।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে মনে করছে হোয়াইট হাউস। তবে ইরানের পার্লামেন্টের এক জ্যেষ্ঠ সদস্য এটিকে ‘পছন্দের তালিকা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি এখনো পর্যালোচনা করছে তেহরান। পর্যালোচনা শেষে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানানো হবে।
প্রস্তাবিত ১৪ দফার আলোচনায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump দাবি করেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে “খুব ভালো আলোচনা” হয়েছে এবং একটি চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেন, “যে যুদ্ধে আমেরিকা হেরে যাচ্ছে, সেখানে তারা আলোচনায়ও কিছু পাবে না।”
তিনি আরও বলেন, “ইরান ট্রিগারে আঙুল রেখেই প্রস্তুত আছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ছাড় না দিলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।”
এর জবাবে ট্রাম্পও নতুন হামলার হুমকি দিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি বলেন, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে আবারও বোমাবর্ষণ শুরু হবে এবং তা আগের চেয়ে আরও তীব্র হবে।
ট্রাম্প আরও জানান, ইরান চুক্তির শর্ত মেনে নিলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান “অপারেশন এপিক ফিউরি” সমাপ্ত হবে। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio বলেছিলেন, অভিযানের লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় সেটি বন্ধ করা হয়েছে।