যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘বেপরোয়া সামরিক দুঃসাহস’ দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “যখনই কোনো কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়, তখনই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পথ বেছে নেয়। তবে ইরান কখনোই চাপের কাছে মাথা নত করবে না।”
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যের আগে ওমান উপসাগর-এ একাধিক ইরানি নৌযানে মার্কিন হামলার খবর প্রকাশিত হয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, চলমান নৌ-অবরোধ অমান্য করে ইরানি বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করায় দুটি ইরানি পতাকাবাহী খালি তেলের ট্যাংকারকে তারা ‘নিষ্ক্রিয়’ করে দিয়েছে। তাদের দাবি, এ পর্যন্ত ৭০টির বেশি ট্যাংকারকে ইরানি বন্দরে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, ওমান উপসাগর-এ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তারা একটি ট্যাংকার জব্দ করেছে। ইরানের দাবি, দেশটির তেল রপ্তানি ও জাতীয় স্বার্থে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছিল ওই জাহাজ।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে নৌযানটিতে ইরানি বাহিনীর অভিযানের দৃশ্যও দেখানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক জাহাজ পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্যমতে, জাহাজটি বার্বাডোজ-এ নিবন্ধিত।
এর আগের দিনও হরমুজ প্রণালি-তে দুই পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ আনে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ইরান তাদের জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান পাঠিয়েছিল। পাল্টা ইরান অভিযোগ করে, যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি তেলের ট্যাংকার ও একটি কার্গো জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
ইরানের হরমুজগান প্রদেশ-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় একটি কার্গো জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং অন্তত ১০ নাবিক আহত হন।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের একাধিক ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ছোট নৌযান ধ্বংস করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দ্রুত কোনো চুক্তি না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।