
সাম্প্রতিক নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানির ঘটনাকে ত্বরান্বিত করা জলবায়ু সংকট বিশ্ববাসীর জন্য এক ‘চরম সতর্কবার্তা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেয়া ভাষণে আন্তর্জাতিক জলবায়ু ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের কড়া দাবি জানান তিনি।গত মাসে হিমালয় কন্যা নেপালে ঘটে যাওয়া ভোতেকোশি-ত্রিশূলি বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরে বালেন্দ্র শাহ বলেন, ‘নেপালের এই ট্র্যাজেডি কেবল একটি স্থানীয় দুর্ঘটনা ছিল না; এটি ছিল পুরো বিশ্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা। আজ আমি আপনাদের কাছে প্রশ্ন রাখছি, আমরা কি সত্যিই সেই সতর্কবার্তা শুনতে পেয়েছি?’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাজনীতিবিদরা জলবায়ু সংকটের বিষয়ে বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তাকে সময়মতো পদক্ষেপে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
গবেষকদের মতে, হিমালয়ের গলতে থাকা বরফ এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নই নেপালে এই প্রাণঘাতী বন্যার মূল কারণ।
প্রসঙ্গত, ৩৬ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ চলতি বছর সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়া সবচেয়ে কম বয়সী সরকারপ্রধান। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে নেপালের অবদান দশমিক এক শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে মারাত্মক মাশুল তাদেরই গুণতে হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেপালি প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে জলবায়ু অর্থায়নকে সাহায্যপ্রার্থী দেশগুলোর জন্য আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় রূপ দেওয়া উচিত নয়।
তিনি বলেন, ‘যখন কারো বাড়ি পুড়ে যায়, তখন আমরা তাদের ৫০টি ফর্ম পূরণ করতে বলি না, আমরা পদক্ষেপ নেই। জলবায়ু ন্যায়বিচার বলতে ঠিক এটিকেই বোঝায়।’
নেপালের প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী এই বন্যায় দেশটির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি ডলার, যা তাদের মোট জিডিপির ১৫ শতাংশের বেশি। ফলে নেপাল বৈশ্বিক লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তার দাবি জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের চাহিদার তুলনায় বিশ্বনেতাদের দেওয়া প্রতিশ্রুত আন্তর্জাতিক সহায়তার পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য। বারবার বিপর্যয়ের মুখে পড়া ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র দেশগুলোর প্রতি সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক তহবিল প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানান অপরাপর জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের নেতারাও।