নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
উৎসবের সঙ্গে রঙের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। হেমন্তকালের প্রকৃতিতে মূলত হালকা হলুদ রঙের প্রাধান্য দেখা যায়, যার সঙ্গে মিশে থাকে সোনালি আভা। সবুজ রঙ আস্তে আস্তে ম্লান হয়ে হলুদে রূপ নেয়। মাঠের দিকে তাকালে দেখা যায় খেতের ধানে বয়সের ছাপ পড়েছে। আর মাত্র কিছুদিন বাদেই এই সোনালি ধানের নাড়াভরা প্রান্তরের ওপরে ভেসে বেড়াবে কুয়াশার চাদর। ঠিক এমন একটি সময়েই এবার দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার ফলে পোশাকের রঙের নির্বাচনে কিছুটা চিন্তার সৃষ্টি হয়েছে।
এই চিন্তার কারণ হলো, শারদীয় দুর্গোৎসবে সাদা জমিনের ওপরে লাল পাড়ের শাড়ি পরার রেওয়াজ দীর্ঘদিনের, তা সেটি গরদের হোক কিংবা সুতির। অথচ বর্তমান আবহাওয়া এবং চারপাশের প্রকৃতি ওই সাদার ঠিক বিপরীত বা প্রতিপক্ষ হিসেবে অবস্থান করছে। প্রশ্ন জাগে, তবে এবারের সঠিক রংটি কী হতে পারে? আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে মাঠের ধান এখন বয়সের ভারে হলুদ থেকে সোনালি বর্ণ ধারণ করছে। আর ধানগাছগুলো সবুজ থেকে হলুদের পথে থাকলেও এখনো পুরোপুরি হলুদ হয়নি, বরং মাঝামাঝি একটি অবস্থায় রয়েছে।
প্রকৃতির এই রূপটিকে ঠিক কোন শ্রেণির রং বলা চলে, তা নিয়ে ভাবার অবকাশ রয়েছে। এটিকে গাঁদা ফুলের রঙের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে, তবে শর্ত হলো গাঁদা ফুলের হলুদের সঙ্গে সামান্য মাত্রায় সবুজ মেশালে যে বিশেষ রঙের সৃষ্টি হয়, সেটিই এর প্রকৃত রূপ। বর্তমান সময়ে চারপাশের প্রকৃতির সঙ্গে যদি পোশাকে চমৎকার একটি সমন্বয় বা মেলবন্ধন ঘটাতে চান, তবে ঠিক এই রঙের পোশাক পরিধান করাটাই সবচেয়ে উপযোগী হবে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর