নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
লস ব্লাঙ্কোসদের কাছে চার-এক ব্যবধানে পরাস্ত হওয়ার পর রেফারিংয়ের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সেভিয়ার প্রাক্তনী আন্তোনিতো। পেকে ফার্নান্দেজের ওপর আর্দা গুলেরের ট্যাকল, ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটির আগের মুহূর্তের ফাউল এবং পেনাল্টির বাঁশি বাজানোর মতো বিষয়গুলো তুলে ধরে রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত চড়া সুরে আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।
ক্লাবের নির্ধারিত সম্প্রচার মাধ্যম সেভিয়া এফসি রেডিওতে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে আন্তোনিতো সরাসরি জানতে চান যে, রেফারিং নিয়ে নিয়মিত অসন্তোষ প্রকাশ করার পূর্বে রিয়াল মাদ্রিদের একটুও লজ্জা হওয়া উচিত নয় কি?
তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক এই খেলোয়াড় প্রশ্ন তোলেন, ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে কথা বলতে কি রিয়াল মাদ্রিদের লজ্জাবোধ হয় না? তাদের সাফাই হলো, পেকে যে কনুইয়ের ঘায়ের শিকার হয়েছিল, সে দৃশ্য নাকি তাদের দৃষ্টিগোচর হয়নি। অথচ সেই সময়ে স্কোরবোর্ডে গোলশূন্য ড্র ছিল। এটি ছিল একটি অত্যন্ত নিষ্পত্তিমূলক মুহূর্ত, আর তারা বলছে যে বিষয়টি তাদের চোখ এড়িয়ে গেছে। এ কেমন ধরনের খেলা! তাছাড়া, লা লিগা কর্তৃপক্ষ এবং ভিএআর প্রযুক্তির কি একটুও লাজ-লজ্জা নেই?
ওই ম্যাচের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত তাদের দলের বিপক্ষে গিয়েছে বলেও জোরালোভাবে বিশ্বাস করেন আন্তোনিতো। তাঁর জোরালো দাবি অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গুলেরের মাঠ থেকে বহিষ্কার বা লাল কার্ড পাওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি, রিয়ালের দ্বিতীয় গোলটি আসার ঠিক আগে ফাউল সংঘটিত হয়েছিল এবং সেভিয়ারও একটি গোল প্রাপ্য ছিল বলে তিনি মনে করেন।
ম্যাচ পরিচালনাকারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্য ক্ষোভের পাশাপাশি আসন্ন এল ক্লাসিকো ম্যাচটিকে কেন্দ্র করেও নানা প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন আন্তোনিতো। তাঁর দৃষ্টিতে, রিয়াল মাদ্রিদ যাতে ব্যবধান বাড়িয়ে পয়েন্ট টেবিলে আরও ওপরে চলে যেতে না পারে, সেই উদ্দেশ্যে সবকিছু আগে থেকেই পরিকল্পনা করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে—এমন ধারণা পুরোপুরি অর্থহীন।
এই প্রসঙ্গে নিজের মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, মাঝমাঠের ওই পরিস্থিতি বা ঘটনার বিচারে একমাত্র সঠিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বৈধ গোলটি কেবল রিয়ালের পক্ষেই গিয়েছিল। আর যে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে, তা ছিল সম্পূর্ণ হাস্যকর এক ঘটনা। এ ধরনের অদ্ভুত পেনাল্টি কেবল রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনার মতো ক্লাবগুলোর পক্ষেই দেওয়া সম্ভব।
প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই ম্যাচটি বড় ধরনের কোনো ইনজুরি কিংবা কাউকে লাল কার্ড দেখতে না হয়ে সমাপ্ত হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করেছেন সেভিয়ার এই সাবেক তারকা। তবে রেফারির বিতর্কিত সব সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর মনের ভেতরে জমে থাকা ক্ষোভ ও অসন্তোষ যে একটুও কমে যায়নি, রিয়াল মাদ্রিদকে নিয়ে তাঁর এই কঠোর ও তীর্যক মন্তব্যই তার স্পষ্ট প্রমাণ দিচ্ছে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর