ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ফেসবুকে উসকানি ও হত্যার ঘটনায় মেটার দায় এবং জবাবদিহির প্রশ্ন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 19, 2026 ইং
ফেসবুকে উসকানি ও হত্যার ঘটনায় মেটার দায় এবং জবাবদিহির প্রশ্ন ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটার নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী, তাদের প্ল্যাটফর্মের কোনো কনটেন্টের কারণে যেন বাস্তব জীবনে কোনো সম্ভাব্য সহিংসতা না ঘটে, সেটি প্রতিরোধ করাই তাদের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে তারা এমন সব বক্তব্য বা কনটেন্ট অপসারণ করে থাকে, যা সহিংসতায় সরাসরি উসকানি জোগায় কিংবা সহিংসতা ঘটাতে সহায়তা করে এবং জননিরাপত্তা বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য বিশ্বাসযোগ্য কোনো ধরনের হুমকি তৈরি করে।

সাতক্ষীরার দেবহাটার ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলোর প্রতিটিই পুরোপুরি প্রযোজ্য ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও শামীমের জীবন রক্ষা পায়নি। একবার নয়, বরং দুবার ফেসবুক লাইভ এবং বেশ কিছু প্ররোচনামূলক পোস্টের মাধ্যমে শামীমকে হত্যার সম্পূর্ণ আয়োজন করা হয়। অথচ হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পরও সেই লাইভগুলো ফেসবুকে বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে। মেটার কাছে এখনো বোধ হয় প্রতীয়মান হয়নি যে তাদের প্ল্যাটফর্মে থাকা এসব উসকানি কোনো মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে বা ক্ষতি করতে পারে। অথচ নির্মমভাবে শামীম মারা গেছেন।

শামীমের এই হত্যাকাণ্ডের পর সেই একই ফেসবুকে সাধারণ মানুষ তীব্র হট্টগোল করেছে এবং খুনিদের বিচার দাবি করেছে। উসকানিদাতা গ্রেপ্তার হলেও কিছুদিন বাদেই হয়তো আবারও অন্য কোনো শামীমের নিথর লাশের ছবি এই ফেসবুকপাড়ায় ভেসে বেড়াবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি নিষ্ক্রিয়তার প্রসঙ্গটি নতুন করে না টানলেও চলে। কিন্তু ফেসবুকে সহিংসতার প্রকাশ্য আহ্বান ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে দেশে বারবার ঘটে চলা এমন প্রতিটি লোমহর্ষক ঘটনার পেছনে কি এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মটির বিন্দুমাত্র দায় নেই? তাদের কি কোনো জবাবদিহি থাকা উচিত নয়?

ফেসবুকে উসকানি ছড়িয়ে হামলা ও সহিংসতার এই আলোচিত সংস্কৃতির সূচনা হয়েছিল পনেরো বছর আগে ২০১২ সালে কক্সবাজারের রামু উপজেলায়, যেখানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর অত্যন্ত ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছিল। সেই উসকানির ধারা থেমে থাকেনি, বরং দিন দিন তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ও ধ্বংসাত্মক ঘটনাটি ঘটে ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে, যখন কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননার একটি মিথ্যা অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিও বাংলাদেশের অন্তত ১৮টি জেলায় বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতা উসকে দেয়। ফ্রিডম হাউসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সে সময়ের ওই ভয়াবহ সহিংসতায় কমপক্ষে ১১ জন নিহত এবং শত শত সাধারণ মানুষ গুরুতর আহত হয়েছিলেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে তৎকালীন সরকার মুঠোফোনে ইন্টারনেট সেবামূলক কার্যক্রমও বন্ধ রেখেছিল।

গত দুই বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানি ছড়িয়ে হামলা ও মানুষ হত্যার মতো ঘটনা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। গত ডিসেম্বরের দিকে ৯৫৮টি পোস্টে—যা দ্য ডেইলি স্টার ও ডিসমিসল্যাবের একটি যৌথ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে—প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারে সরাসরি হামলার আহ্বান জানানো কিংবা সেই হামলাকে উদ্‌যাপন করার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে নজিরবিহীন হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। একই রাতে নৃশংসতার শিকার হয় উদীচী ও ছায়ানট। এছাড়া চলতি বছরের এপ্রিল মাসের দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ফেসবুকে উসকানি ছড়িয়ে একজন পীরকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

মেটার নিজস্ব নীতিমালায় সহিংসতার উসকানি, যেকোনো ধরনের হুমকি, হয়রানি এবং ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকি সৃষ্টির বিরুদ্ধে অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর বিধান রয়েছে। বিশ্বজুড়ে নিজেদের নিরাপত্তার নীতিমালায় প্রতিষ্ঠানটি বারবার বলে এসেছে যে তারা এমন যেকোনো কনটেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে দেয়, যা মানুষের শারীরিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ ছাড়া মানুষকে হুমকি দেওয়া বা ভীতিপ্রদর্শনকারী পোস্ট, যা অন্যকে ভয় দেখিয়ে কথা বলতে বা মত প্রকাশ করতে বাধা দেয়, তাও তাদের প্ল্যাটফর্মে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও অননুমোদিত। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, বাংলাদেশে এই নিষিদ্ধ বিষয়গুলোই দিনের পর দিন সম্পূর্ণ অনুমোদিত হয়ে থেকে যাচ্ছে!

গত ডিসেম্বরে গণমাধ্যমের ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেটার ভূমিকা নিয়ে চারদিকে তীব্র প্রশ্ন উঠেছিল। যদিও সে সময় কিছু নির্দিষ্ট ইনফ্লুয়েন্সারের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছিল, কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি, কারণ তারা খুব সহজেই আবারও একই প্ল্যাটফর্মে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে চলতি বছরের মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে মেটার সামগ্রিক ভূমিকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। তারা জোরালোভাবে সতর্ক করে বলেছিল যে ক্ষতিকর অনলাইন কনটেন্টের বিরুদ্ধে যদি সময়মতো ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয়, তবে বাস্তব জীবনে সহিংসতা এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি আরও বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। গত ডিসেম্বরের হামলার ঠিক আগে ফেসবুকে যে ধরনের প্রকাশ্য হুমকি ও উসকানি ছড়িয়ে পড়েছিল, তার মাধ্যমেই যে হামলাগুলো ঘটেছিল, সে বিষয়টিও তারা তাদের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিল।

এখন স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্ন সামনে আসে যে, মেটার এই নিজস্ব নীতিমালা ভাঙার প্রবণতা রোধে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো কী ধরনের জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে? উদাহরণস্বরূপ, ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় ফেসবুক অত্যন্ত তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল। এমনকি খোদ মেটার প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গকে মার্কিন কংগ্রেসের সামনে সশরীরে হাজির হয়ে জবাবদিহি করতে হয়েছিল। এ ছাড়া ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যে সংঘটিত দাঙ্গার সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে দেরিতে পদক্ষেপ নেওয়া এবং উসকানি ছড়ানোর দায়ে মেটার বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত পরিচালিত হয়েছিল। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের কঠোর ‘ডিজাইন সার্ভিসেস অ্যাক্ট’ বা ডিজিটাল সেবা আইনের অধীনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে এ বিষয়ে জবাবদিহির আওতায় এনেছে; এই আইন অনুযায়ী কোনো প্ল্যাটফর্ম যদি সহিংসতা কিংবা ভুয়া খবর ছড়ানোর মতো বিষয় রোধ করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়, তবে তাদের বিশ্বব্যাপী বার্ষিক টার্নওভারের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত আর্থিক জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে।

এমতাবস্থায় স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে যে, বাংলাদেশ সরকার কি কখনো এই বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে কোনো ধরনের জবাবদিহির আওতায় আনার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করেনি? কিছুটা তো করেছে এবং বর্তমান সময়েও সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে অন্যান্য দেশে এ ধরনের আইন প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য থাকে সাধারণ নাগরিকদের সার্বিক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া, আর আমাদের দেশে এই আইনগুলো করা হয় মূলত সরকারদলীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। যে কারণে মেটার মতো বিশাল প্রযুক্তি জায়ান্টদের জবাবদিহির প্রশ্নটি যখনই সামনে আসে, তখনই বড় আকারে ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রোধ ও বাধার’ বিষয়টি সামনে চলে আসে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমালে এই ধরনের নিবর্তনমূলক আইনের চরম ও অপপ্রয়োগ করা হয়েছিল।

সম্প্রতি বর্তমান সরকার সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যেখানে মূলত সহিংসতা উসকে দেওয়া, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা, সাইবার বুলিং, ভুয়া তথ্য ছড়ানো কিংবা হুমকি প্রদর্শনের মতো বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আইনি বিধান রাখা হয়েছে। তবে এই বিধানগুলো মূলত সরকারের তরফ থেকে পদক্ষেপ নেওয়ার এখতিয়ার তৈরি করে, সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর নিজস্ব জবাবদিহির জন্য নয়।

এদিকে প্রায় চার বছর ধরে দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নীতিমালা প্রণয়নের নানা উদ্যোগ ও আলোচনার কথা শোনা যাচ্ছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই নীতি বাস্তবায়নের প্রধান হর্তাকর্তা কে হবেন, তা নিয়ে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একধরনের তীব্র রেষারেষি বা দ্বন্দ্ব লেগেই ছিল, যার কোনো সুরাহা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও করা সম্ভব হয়নি। এমনকি পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার আসার পর ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল ইন্টারমিডিয়ারি আইন ২০২৬’ নামে সম্পূর্ণ নতুন একটি আইন তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রণয়ন করতে যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে।

মেটা একের পর এক তাদের নিজস্ব নীতিমালা প্রকাশ্যে লঙ্ঘন করে চলেছে এবং বাংলাদেশে একের পর এক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, অথচ এ বিষয়ে তাদের কোনো ধরনের জবাবদিহি করতে হচ্ছে না। অবশ্য বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারের সামগ্রিক আচরণ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ডিজিটাল মাধ্যমসংক্রান্ত যেকোনো নতুন নীতি প্রণয়ন করা হলে দেশের সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি এই বহুজাতিক প্ল্যাটফর্মগুলোও সবসময় একধরনের তীব্র দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকে। বিশেষ করে সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি নীতিগত অবস্থানের কারণে মেটা প্রকারান্তরে বাংলাদেশে তাদের সেবা কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি পর্যন্ত প্রদান করেছিল।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ব্যবহারকারীদের উপাত্ত স্থানীয়করণের বাধ্যতামূলক শর্ত এবং এই আইন লঙ্ঘনের দায়ে কঠোর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল, যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মেটা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের মেটার পাবলিক পলিসি ম্যানেজার রুজান সারওয়ার গত এপ্রিল মাসে ডিজিটালি রাইট ও এনগেজমিডিয়ার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ সম্মেলনে এই বিষয়ে তাদের গভীর ক্ষোভের কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন। সেদিন তিনি অভিযোগ করেন যে, উপাত্ত স্থানীয়করণের এই কঠোর বিধানের কারণেই মেটা বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে তাদের সেবা বন্ধ করে দেওয়ার কথা গভীরভাবে চিন্তা করেছিল। অবশ্য মেয়াদের নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার ঠিক কিছুদিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার সেই স্থানীয়করণের বিধানটি সম্পূর্ণভাবে বাতিল করে দেয়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসের সেই কনফারেন্সে মেটার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সহিংসতা উসকে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট ঘটনায় রুজান সারওয়ার তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়েন। তবে সেদিন তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, অনলাইনে যা-ই ঘটুক না কেন, ‘অফলাইনে ঘটা যেকোনো সহিংসতা সম্পূর্ণরূপে রোধ করার মূল দায়ভার একমাত্র সরকারেরই।’

বিশ্বের গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মেটার প্রকাশ্য বৈষম্যমূলক আচরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ২০২২ সালে মেটার এই দ্বিমুখী ও বৈষম্যমূলক নীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সে সময় প্রকাশিত তাদের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, মেটার অত্যন্ত মুনাফাকেন্দ্রিক অ্যালগরিদম এবং নজরদারিভিত্তিক বাণিজ্যিক মডেল গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোতে জাতিগত বৈষম্য, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং সামাজিক সহিংসতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রধান ভূমিকা পালন করে চলেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
৩৪ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে চীনা ট্যাংকার

৩৪ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে চীনা ট্যাংকার