নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার রাফাহ অঞ্চলের পূর্বাঞ্চলে একটি আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জরিপের কাজ সম্পন্ন করেছে মিসরের একটি প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান। ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন 'ইয়েলো লাইন' এলাকার মধ্যে অবস্থিত এই অংশে নতুন আবাসিক অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
গত আগস্ট মাসে ইসরায়েলি আর্মি রেডিওর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল যে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ রাফাহর ওই নির্দিষ্ট এলাকায় অবকাঠামোগত নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন। হামাসের নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত ফিলিস্তিনিদের বসবাসের জন্য এই প্রকল্প বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রস্তুত করা হয়।
ওই গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নির্মাণকাজের সার্বিক তালিকার মধ্যে ভূমি খনন এবং বিদ্যুৎ, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার নেটওয়ার্ক সংযোগ স্থাপন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এই এলাকায় প্রবেশের পূর্বে প্রতিটি ফিলিস্তিনি ঠিকাদার ও শ্রমিককে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের কঠোর নিরাপত্তা ছাড়পত্র অর্জন করতে হবে।
পরবর্তীতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের কিছু তথ্য আংশিকভাবে অস্বীকার করা হয়। নেতানিয়াহুর কার্যালয় স্পষ্ট করে জানায় যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তায় 'গ্রিন রাফাহ' নামক একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প ইতিমধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে চলমান ছিল এবং এর সমস্ত অবকাঠামো নির্মাণকাজ পরিচালিত হবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে।
মূলত গাজা উপত্যকার সার্বিক পুনর্গঠন সংক্রান্ত মার্কিন সমর্থিত একটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক পরিকল্পনারই অংশ হলো এই রাফাহর প্রস্তাবিত আবাসন প্রকল্প। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সুইজারল্যান্ডের দাভোস শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এই মাস্টারপ্ল্যানটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেছিলেন।
'নিউ গাজা' নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার আওতায় উপত্যকাটিতে আধুনিক নতুন আবাসিক এলাকা, বিশাল শিল্পাঞ্চল ও উন্নত পরিবহন অবকাঠামো নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। এর মাধ্যমে বড় পরিসরে পুনর্নির্মাণকাজ চালিয়ে গাজার বর্তমান ভৌগোলিক ও সামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর